জার্নাল ডেস্ক
13 April 2020
  • No Comments

    ময়মনসিংহে ৪ বছর পর হতদরিদ্ররা জানতে পারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীতে তালিকাভুক্ত

    শাহজাহান কবীর,গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অর্ধশতাধিক হতদরিদ্র নারী-পুরুষ চার বছর পরে জানতে পারলেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় তারা তালিকাভুক্ত। ইউএনও আদেশের পরে ডিলারের দোকানের সামনে টানানো উপকারভোগীদের তালিকা দেখে সুবিধাভোগীরা বিষটি নিশ্চিত হন। এদিকে দুর্নীতির ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগীরা ওই ডিলারের দোকান ঘরের সামনে ৪দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তাদের কার্ড বুঝিয়ে দেয়ার জন্য।

    জানাগেছে ,২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার আরিয়ান ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রুকুনুজ্জামান পল্লবের বিরুদ্ধে এ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। চার বছর আগে উপকারভোগীদের মাঝে এ কর্মসূচীর কার্ড বিতরণ করা হলেও তাদের নামে যে কার্ড করা হয়েছে এ বিষয়টি জানা ছিল না । বিগত চার বছরে হতদরিদ্রদের নামে বরাদ্দকৃত চাল মাস্টাররোলে যথারীতি টিপ সই দিয়ে ডিলারের কাছ থেকে উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।

    শনিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জেলা প্রশাসক বরাবর উল্লেখিত ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা।

    ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ জানান,
    চাল দেয়ার কথা বলে রুকুনুজ্জামান পল্লব তার কাছ থেকে নিজ ওয়ার্ডের অর্ধশতাধিক হতদরিদ্র মানুষে কার্ড জমা নিয়েছিলেন আরো অনেক আগে। এরপর তিনি আর কার্ডগুলো ফেরত দেননি। এদিকে মাস্টাররোলে ভূয়া টিপ সই দিয়ে হতদরিদ্রদের নামে বরাদ্দকৃত চাল ডিলার নিজেই উত্তোলন করে কালোবাজারে তা বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার রুকুনুজ্জামান পল্লব বলেন, ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ আমার কাছে কোন কার্ড জমা দেননি। আর তালিকাভুক্ত হতদরিদ্রদের মাঝে কার্ড বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের ডিলারের নয়। ডিলারের কাজ হচ্ছে তালিকাভুক্তদের মাঝে চাল বিক্রি করা। চলতি বছর তিনি দোকানে নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করছেন। এর আগে অন্য লোকদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করতেন তিনি। তাই অনিয়মের বিষয়টি তিনি জানতেন না।
    গাভীশিমুল গ্রামের ভুক্তভোগী খোকন, রোজিনা, কল্পনাসহ আরো কয়েকজন জানান, ডিলার রুকুনুজ্জামান পল্লব তাদেরকে চলতি বরাদ্দের এক মাসের চাল দিতে চাইছেন। কিন্তু তারা পুরো চার বছরের চাল না নিয়ে ঘরে ফিরবেন না বলে জানান।

    গৌরীপুর ২নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি মেম্বারদের মাধ্যমে তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর কার্ডগুলো বিতরণ করেছিলেন। ৫নং ওয়াডের্র মানুষ যে কার্ড বুঝে পায়নি এ পর্যন্ত তাকে কেউ জানাননি।

    উল্লেখিত ডিলারের তদারকি কর্মকর্তা স্বাস্থ্য সহকারি আব্দুল মালেক জানান, তিনি দু’মাস হয়েছে উল্লেখিত ডিলারের তদারিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। তাই অনিয়মের বিষয়টি তিনি জানতেন না। তাছাড়া চাল বিতরণের ক্ষেত্রে ডিলার তার সাথে কোন সমন্বয় করতেন না বলে জানান তিনি।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর জানান, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীতে স্বচ্ছতা আনতে এ উপজেলার প্রত্যেক ডিলারের ঘরের সামনে তালিকা সাঁটিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়েছে। কার্ড বঞ্চিতদের মাঝে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে চাল বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ডিলারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সরকার জানান, অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ভুক্তভোগীদের মাঝে চাল বিতরণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *