ময়মনসিংহে ধান ক্রয়ে অনিয়ম, কৃষকদের হাতে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা লাঞ্চিত

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় গতকাল সোমবার তৃতীয় দফায় ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তদন্ত শেষে ভুক্তভোগী ও ক্ষুব্ধ কৃষকদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন ফুলপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো: মাজাহারুল ইসলাম কামাল।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ধানক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। তদন্তকালে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিলে ওই কর্মকর্তা পালিয়ে যায়।
তবে ফুলপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো: মাজাহারুল ইসলাম কামাল বলেন, তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় অভিযোগকারী উত্তেজিত হয়ে পরিকল্পিত ভাবে সিনক্রেট কিছু করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষতক তারা সফল হতে পারেনি।
সূত্র জানায়, চলতি বছরে ফুলপুর উপজেলায় সর্বমোট ২ হাজার ২ শত ২১ মেট্রিক টন ধানক্রয়ের অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় গত বছর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তদন্ত হলে ভুক্তভোগী শতাধিক কৃষক ওই তদন্তে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত করেন। সর্বশেষ গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারী খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে তৃতীয় দফায় অভিযোগ তদন্ত করেন নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া বেগম। ওই তদন্তেও ভুক্তভোগী কৃষকরা উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। তবে ধানক্রয়ে অনিয়মের তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট গুদাম কর্মকর্তা মিথ্যা অপপ্রচার করায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো: মাজাহারুল ইসলাম কামালকে লাঞ্চিত করেন।
সূত্র জানায়, কার্যালয়ে বসে মদ্যপানের অভিযোগে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো: মাজাহারুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে আরেকটি তদন্ত চলমান আছে। সম্প্রতি খাদ্য কর্মকর্তা কামালসহ বেশ কজয়েকজন কর্মকর্তা অফিসে বসে মদ্যপানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টিতে আসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক এএইচএম কামরুজ্জামান। তিনি জানান, খুব দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এদিকে ময়মনসিংহ হালুয়াঘাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আফিুর রহমাননের বিরুদ্ধে ধানক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তা গত ৬ মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আমন ধান সংগ্রহে জনপ্রতি কৃষকের কাছ থেকে পাঁচশ টাকা করে উৎকোচ আদায় করে প্রতি মন ধানে ২কেজি বাড়তি নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগসাজসে স্থানীয় সাথী অটো মিল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ধান ক্রাশিংএর নামে প্রতি মনে কৃষকদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন ওই কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরো জানায়, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে আমন ধান ক্রয়ে এ উপজেলায় ২ হাজার ৫১২ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয়ের কথা রয়েছে। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বরাদ্ধের বেশির ভাগ ধান কৃষক ঠকিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্রয় করছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী মহলের।
এবিষয়ে হালুয়াঘাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৪০ কেজিতে মণ হিসাব করে ধান ক্রয় করছি। তবে ধানের আর্দ্রতা ও বস্তার কারণে ওজন কিছুটা হেরফের হতে পারে। কিন্তু ধানক্রয়ে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি।