বিধি লঙ্গন করে একই সাথে দুই কলেজের অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ পদে চাকরী !

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

আমান উল্লাহ আকন্দ:
বিধি লঙ্গন করে একই সাথে দুই কলেজে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দ্বায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বুলবুল আহমেদ ২০০০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। সেখানে তিনি এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারী সুবিধা ভোগ করলেও ২০১৮ সালের ৬ মে থেকে তিনি ওই কলেজে অনুপস্থিত রয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২০নভেম্বর কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারী করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী বুলবুল আহমেদকে দ্বিতীয় বার কারণ দর্শানোর নোটিশ জারী করেন সংশ্লিষ্ট কলেজ অধ্যক্ষ মো: লুৎফর রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, বুলবুল আহমেদ লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি না নিয়েই ২০১৮ সালের ৫ মার্চ বর্ডার র্গাড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ময়মনসিংহের অধ্যক্ষ পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ লাভ করেছেন। যা চাকরী বিধির পরিপন্থি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: লুৎফর রহমান। তিনি জানান, শুনেছি বর্তমানে বুলবুল আহমেদ বর্ডার র্গাড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ময়মনসিংহে অধ্যক্ষ পদে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। তবে র্দীঘ সময় যাবত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিতি থাকার কারণে ইতিমধ্যে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অচিরেই কলেজ গভর্নিং বডির সভা আহবান করে রেজুলেশনের মাধ্যমে তাঁর এমপিও বাতিলের জন্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অধ্যক্ষ মো: লুৎফর রহমান আরো জানান, বুলবুল আহমেদ লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজে যোগদানের পর র্দীঘ সময় পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্থ ছিলেন।
তবে বুলবুল আহমেদ বলেন, আমি লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজে কর্মরত নেই। সেখান থেকে বেতন-ভাতা নিচ্ছি না। বর্তমানে আমি চাকরী বিধি মেনে বর্ডার র্গাড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ময়মনসিংহের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত আছি।
এবিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো: আজাহারুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিতকরণের মাধ্যমে অনুমতি না নিয়ে একই সাথে দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা চাকরী বিধি লঙ্গন। এ ধরনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।