জার্নাল ডেস্ক
16 January 2020
  • No Comments

    শশুড়বাড়ীর সম্পত্তির দ্বন্দ্বে খুন হয় মা-মেয়ে ! ঘাতক আটক

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    ‘শশুরবাড়ীর সম্পত্তির দ্বন্দ্বে নিজ কন্যা ও স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন ঘাতক স্বামী শফিকুল ইসলাম শাহিন(৫০)। আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঘটনার মূল হোতা শাহীন।’
    বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী পলাতক থাকলেও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতক শাহীনকে কিশোরগঞ্জ জেলার ঘাইটাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
    ডিবি ওসি আরো জানান, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক শাহীন ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। সে জানিয়েছে যে, ব্যবসা করে দফায় দফায় পুঁিজ হারিয়ে সে এখস নি:স্ব প্রায়। ওই অবস্থায় শশুরবাড়ীর ওয়ারিশ হিসেবে কিছু জমি পায় তার স্ত্রী রুমা আক্তার। কিন্তু ওই জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও রুমা আক্তার ও তাঁর অন্য শরীকরা জমিটি বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা সম্পত্তির ভাগ পায়। সম্প্রতি ওই সম্পত্তিটি নিয়ে পূর্ব থেকে চলে আসা মামলায় ডিগ্রী পায় প্রতিপক্ষরা। এতে বিপাকে পড়ে যায় রুমা ও তাঁর পরিবার। এখন আদালতের নির্দেশে ওই সম্পত্তির মূল্য হিসেবে ১০ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয় রুমা আক্তদারকে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের জের ধরেই খুন হন স্ত্রী রুমা আক্তার (৩৮) ও কন্যা নাফিয়া আক্তার (১২)। তবে এ ঘটনার বাইরেও ঘটনার নেপথ্যে আরো কোন বিষয় থাকতে পারে বলে জানান ওসি ডিবি শাহ কামাল আকন্দ। তিনি বলেন, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য জানা যেতে পারে।
    কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়নের ফকিরবাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাটি দেখে ফেলায় ঘাতক তাঁর বড় কন্যা সাদিয়া আফরিন লাবণ্যকেও(২১) হত্যার চেষ্টা করে। কিস্তু লাবণ্যর ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ঘাতক পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় সাদিয়া আফরিন লাবণ্যকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদিয়া আফরিন লাবণ্য বাদী হয়ে ঘাতক পিতা শফিকুল ইসলাম শাহিনকে আসামী করে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *