জার্নাল ডেস্ক
27 December 2019
  • No Comments

    ময়মনসিংহে সিবিএমসি’র রজত জয়ন্তীতে চরম অব্যবস্থাপনা

    বিশেষ প্রতিনিধি,
    বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ময়মনসিংহের শহরতলীর উইনারপড়ে অবস্থিত ‘কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ’ এর ২৫বছর পূর্তি রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে গোটা ক্যাম্পাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা বিশ্বনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ছবি শোভা পায়নি। বেসরকারী মেডিকেল শিক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল অবদান থাকলেও তাদের স্মৃতি উপেক্ষিত হওয়ায় দারুন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশেন ( বিএমএ) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এইচ এ গোলান্দাজ তারা। অজ্ঞাত কারণে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি বক্তব্য রাখার সময় বিশাল প্যান্ডেলটি ছিলো প্রায় ফাঁকা। অল্প কয়েকজন দর্শকের উপস্থিতিতে বক্তব্য শেষ করে অতিথিদ্বয়। গোটা অনুষ্ঠানটি চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সিবিএমসি ২৫ বছর পুর্তিতে রজত জয়ন্তী পালিত হয়েছে।

    ২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ সদরের উইনারপাড় কলেজ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিবিএমসির অধ্যক্ষ ডাঃ মির্জা মানজুরুল হক। এতে প্রধান ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই স্মরনিকা ও খাবার পাইনি। অনেকেই না খেয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন। স্থানীয়দের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। রজত জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৫০ জন চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা করে ও ৭’শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০/-(পাঁচশত) টাকা করে রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায় করা হয়েছে। ১০টি ঔষধ কোম্পানীর কাছ থেকে বিজ্ঞাপন ও অনুদান নেয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। এই কলেজের প্রতিষ্ঠা মরহুম অধ্যক্ষ ডাঃ মোফাখারুল ইসলাম যথাযথ সম্মান দেয়া হয়নি। যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেই অজপাড়া গাঁয়ে মেডিকেল কলেজটি গড়ে তুলে ছিলেন। বড় করে তার একটি ছবি মঞ্চে ছিল না। এছাড়া মঞ্চে আশপাশে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার কোন ছবি রাখা হয়নি। না প্রকাশে অনিচ্ছুক অতিথি জানান, অবস্থাপনার কারণে তিনি খাবার এবং স্মরনিকা পাননি। এদিকে প্রধান অতিথি বক্তৃতা প্রদান অজ্ঞাত কারণে অতিথি ও শিক্ষার্থী অধিকাংশ দর্শকসারি থেকে চলে যান। ফলে অনেক চেয়ার খালি দেখা যায়। এদিকে নি¤œমানের খাবার সরবরাহ করে উচ্চ মুল্য দেখানো হয়েছে। অধ্যক্ষের একছত্র আধিপত্যের কারণে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায়, পখাবার বাবদ প্রতি প্যাকেট ৫০০/- টাকা করে ২১’শ প্যাকেট করা হয়েছে।
    এব্যাপারে সিবিএমসির অধ্যক্ষ ডাঃ মির্জা মানজুরুল হক মানজু বলেন, ১৫০ জন চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩০০০/- (তিন হাজার) টাকা করে ও ৭’শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০/-(পাঁচশত) টাকা করে রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায় করা হয়েছে। ১০টি ঔষধ কোম্পানীর কাছ থেকে বিজ্ঞাপন ও অনুদান নেয়া হয়েছে। যথেস্ট খাবার ছিল কিন্ত অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকে খাবার পায়নি। স্মরনিকা কতগুলো ছাপা হয়েছে তা তিনি বলতে পারছি না। এলাকায় যারা স্বল্পমূল্যে জমি দিয়েছেন তাদের কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এতে এলাকার মানুষ দারুন ক্ষোভ প্রকাষ করেছেন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *