ময়মনসিংহে কালো তালিকাভুক্ত ৩১টি মিলে বরাদ্ধ নিয়ে দ্বন্দ্ব , হামলা-মারপিট থানায় জিডি

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহে কালো তালিকাভুক্ত ৩১টি মিলে বরাদ্ধ পেতে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ঘটেছে মারপিটের ঘটনাও। অত:পর বিষয়টি গড়িয়েছে থানা পুলিশে। এনিয়ে প্রকৃত মিলারদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয় জেলা খাদ্য বিভাগের ভেতরে-বাইরে।
সূত্র জানায়, বিগত সময়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করে অস্তিত্বহীন ভূয়া মিল, বন্ধ মিল এবং একই মিলের নামে একাধিক লাইসেন্সে বরাদ্দ দেখিয়ে বিপুল পরিমান চালের বরাদ্ধ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ফলে সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলায় সরকারি ভাবে খাদ্যশস্য ক্রয় অভিযানে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠলে সরেজমিনে অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে সরেজমিন তদন্তে অস্তিত্বহীন ও ভুয়া মিলের প্রমাণ মিললে জেলার মোট ৩১টি মিলের বরাদ্ধ বাতিল করে কালো তালিকাভূক্ত করা হয়। কিন্তু গত ১৯ ডিসেম্বর ওইসব কালো তালিকাভুক্ত মিলে বরাদ্ধ পেতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঝে অবৈধ চাপ সৃষ্টি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায় স্বঘোষিত মিল মালিক সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান, কথিত সাধারণ সম্পাদক হাজী এরশাদ আলী ও আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। এ সময় খলিলুর রহমান ও হাজী এরশাদের নেতৃত্বে হাসিম আটো রাইস মিলের মালিক মো: হাসিম উদ্দিনের উপর হামলা চালায়।
পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো: হাসিম উদ্দিন কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী দায়ের করেছেন।
সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় মোট ৮৯ টি মিলের সঙ্গে খাদ্য বিভাগ চাল ক্রয়ের চুক্তি করলেও অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষে ১৫টি মিলের বরাদ্দ বাতিল করে ৭৪ টি মিলে বরাদ্দ দেয়া হয়। তার মধ্যে ১৩টি মিল নামে বেনামে সচল দেখিয়ে এবং আতব চালের মিলে সিদ্ধ চাল দেখিয়ে বরাদ্দ নেয় খলিলুর রহমান ও হাজী এরশাদ আলীর সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, আগের মন্ত্রীর আমলে হাজী এরশাদ আলী নামে-বেনামে অস্তিত্বহীন মিলের বিপরীতে প্রায় এক হাজার মেক্ট্রিক টন চাল বরাদ্ধ নিয়ে কমপক্ষে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে খাদ্য বিভাগ থেকে। এনিয়ে মিলারদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এসব বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।