জার্নাল ডেস্ক
21 November 2019
  • No Comments

    ফুলপুর গুদামের দুর্নীতি, স্বাক্ষ্য দিতে শতাধিক কৃষক ডিসি অফিসে

    আমান উল্লাহ আকন্দ:
    ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারী ধান ক্রয়ে অনিয়মের তদন্তে স্বাক্ষ্য দিতে ভুক্তভোগী শতাধিক কৃষক হাজির হয়েছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: জাহাঙ্গীর আলম এ তদন্ত কার্যক্রমের শুনানী করেন।
    খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তদন্তের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, তদন্তের শুনানী হয়েছে। দু’পক্ষের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেছি। সংশ্লিষ্ট গুদাম কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। পরে সরেজমিনে তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন তৈরী করা হবে। তিনি আরো জানান, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত কৃষকদের অনুসন্ধান করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
    উপজেলা ২নং রামভদ্রপুর ইউনিয়নের বাঘেধরা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, এক টন ধান আমি এক সপ্তাহ যাবত গুদামের বাইরে ফেলে রেখেছি। কিন্তু গুদাম কর্মকর্তার কথামত টনপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা না দেওয়ায় তিনি আমার ধান নেননি।
    ৪নং সিংহেশ্বর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কিনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গুদাম কর্তৃপক্ষ ধান ক্রয় করেছেন। এভাবে তিনি কৃষক ঠকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
    ১নং ছনধরা ইউনিয়নের হরিনারি গ্রামের কৃষক আ: সালাম বলেন, দুই দিন গুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়েছি। কিন্তু তারা ধান নেয়নি।
    একই ধরনের অভিযোগ ৩নং ইউনিয়নের ভাইটকান্দা গ্রামের ফজর আলী, ৮নং রূপসী ইউনিয়নের বাশাঁটি গ্রামের ফজলু মেম্বারসহ প্রায় শতাধিক কৃষকের। তারা জানায়, ফুলপুরে সরকারী ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা মিলবে।
    জানা যায়, চলতি বছরের ৩১শে অক্টোবর সরকারী ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক মো: জহিরুল ইসলাম। ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সরকার কর্তৃক খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে ধান ক্রয়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন নামমাত্র কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশির ভাগ ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। এতে সরকারী সুবিধা থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। অভিযোগকারী আরো জানান, সরকারী নীতিমালা অমান্য করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। সরেজমিনে তদন্ত করলেই অভিযোগের সত্যতা মিলবে।
    উপজেলা ধান ক্রয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ধান ক্রয় অভিযানে কিছুটা অসংগতি হতে পারে, কিন্তু বড় ধরনের অনিয়মে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ধান ক্রয়ে বিড়ম্বনার কথা শুনেছিলাম।
    সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, অনিয়মের অভিযোগ থাকায় সম্প্রতি ধান ক্রয়ের একটি বিল উপজেলা হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা কার্যালয়ে জমা হলেও তা ছাড় দেয়া হচ্ছে না।
    এবিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ধান ক্রয়ে অনিয়মের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে গুদামের একটি বিল সম্প্রতি জমা হয়েছে। নিয়ম মেনেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এসব অভিযোগ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন বলেন, সুবিধা না পেয়ে মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার কিছু নেই।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *