কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে বাণিজ্য

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

আহসান হাবীব,
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিবীণা ছাত্র হলের দক্ষিণ পার্শ্বে প্রায় এক বছর আগে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে একটি পুকুর খনন করা হয় তৎকালীন হল প্রভোস্ট এর উদ্যোগে। হল প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল হলের পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে এখানে এই পুকুরটি খনন করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রায় এক বছর পর এখন খননকৃত সেই পুকুরটি আবার ভরাট করা হচ্ছে। বর্তমান হল প্রভোস্ট মো. মাসুদ চৌধুরী এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান এবং উক্ত পুকুর খনন ও ভরাট করা নিয়ে পরিকল্পনা দপ্তর থেকে তাঁকে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এটি যেহেতু পূর্বের প্রভোস্টের সময়কালে হয়েছে তাই উনিই বলতে পারবেন। তবে অগ্নিবীণা হলের সামনে (গ্রন্থাগারের পেছনে) যে পরিত্যাক্ত খালটি রয়েছে সেটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ভরাট করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তৎকালীন হল প্রভোস্ট ড. সিদ্ধার্থ দে’র কাছে ভরাটকৃত পুকুরটির বিষয়ে জানতে চাইলে উনি জানান ওই স্থানে পরিত্যক্ত এবং নোংরা বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে পঁচে যাওয়ার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এই দুর্গন্ধ থেকে হল ছাত্রদের পরিত্রাণলাভ ও হলের পাশের স্থান পরিস্কার করার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়াও তিনি জানান পুকুর খননের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস অফিসের পরামর্শক্রমে সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে কত পরিমাণ অর্থ এ খাতে ব্যায় করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি নিজেই ব্যাক্তিগত সংগ্রহে ব্যায় করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তহবিল থেকে এ ব্যায় বহন করা হয়নি বলে জানান।

পুকুরটি ভরাট করা হবে জেনেই খনন করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুর খনন করার উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয় হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
এদিকে হল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলে যে বিষয়টি ড. সিদ্ধার্থ দে প্রতিবেদককে অবহিত করেন তা নাকচ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস অফিসের পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান।

তিনি আরও বলেন,”এখন ভাস্কর্য রক্ষার্থে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে পুনরায় পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।”