জার্নাল ডেস্ক
29 October 2019
  • No Comments

    স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিস্ব’ স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    গ্রামের অবহেলিত ছেলে-মেয়েদের জন্য যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা দেখা দেয়, দু-একটা স্কুল থাকলেও দূরত্বের কারণে ছেলেমেয়েরা যেতে চায় না, তখন এই অবস্থা দেখে আমি চিন্তা করি, গ্রামের জন্য একটা স্কুল থাকলে কতোই না ভালো হতো! তখন থেকেই লেগে পড়ি স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজে আর এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমার সব ধন-সম্পত্তি শেষ করেছি।” -এভাবেই বলছিলেন ত্রিশালের কানিহারী ইউনিয়নের বালিদিয়া গ্রামের আব্দুস সালাম মাস্টার। বয়সের ভারে একটু নুয়ে পড়লেও গুণী এই শিক্ষকের দেহের মধ্যে রয়েছে তারুণ্যের জ্বলন্ত শিখা আর অফুরন্ত সাহস। অসম্ভব বলতে কোন কিছুই যেন তিনি মানতে নারাজ। তাইতো, ১৯৭৫ সাল থেকেই বিনা-বেতনে গ্রামের অবহেলিত ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষাদান শুরু করেন। ১৯৮২ সালে সুদীর্ঘ চেষ্টা, শ্রম ও নিজস্ব অর্থের বিনিময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্কুলটি রেজি: প্রাথিমক বিদ্যালয় হিসাবে স্বৃকৃতি লাভ করে। নাম দেন বালিদিয়া কচিকাঁচা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    অতঃপর ২০১০-২০১১ মেয়াদে প্রাথমিক বিদ্যালয় যখন সরকারিকরণের আওতায় পড়ে, তার অল্প কিছুদিন আগে তিনি অবসরে চলে যান। অল্পের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও তার মধ্যে নেই কোন আফসোস।সালাম সাহেবের বড় মেয়ে নাজরাতুন নাইম শিলা (সহ:শিক্ষক সানফ্লাওয়ার আইডিয়াল স্কুল ময়মনসিংহ) জানান বাবা জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটিয়েছেন স্কুল ,মাদ্রাসা বা সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যার জন্য আমাদের প্রয়োজন বা দেখবাল করার সুযোগটা বেশি হয়নি তারপরও আমি বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত করি।বাবা সমাজের মানুষদের দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান করতে জনপ্রতিনিধি বা ধনাঢ্য হতে হয় না, তার জন্য প্রয়োজন উচ্চ মনোবল, সৎ সাহস ও দীর্ঘ প্রয়াস।”।বর্তমানে বাবা কিডনীসহ নানা রোগে আক্রান্ত সকলেই উনার জন্য দোয়া করবেন ।

    বালিদিয়া কচিকাঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মুহিত বাবু জানান, “সালাম স্যার আমাদের এলাকার গর্ব। তিনি এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিনিময়ে কিছু পাবেন না জানি কিন্তু তার এই সুনাম সারা জীবন থেকে যাবে।
    এলাকা সূত্রে জানা যায়, ৭৫ বছর বয়সী আব্দুস সালাম মাস্টার বর্তমানে বালিদিয়া কচিকাঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আশাবাদী “স্কুলের পাশেই একটা গ্রন্থাগার স্থাপন করবেন, যদিও প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *