জার্নাল ডেস্ক
4 October 2021
  • No Comments

    বিনা’র নৈরাজ্য রুখবে কে?

    ময়মনসিংহ:
    নৈরাজ্যর তালিকা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে (বিনা)। পাহাড়সম অভিযোগ মাথায় নিয়ে নির্লজ্জ ঠাকুরের ন্যায় একের পর এক তুঘলকি কান্ড  ঘটিয়েই চলছে বিনার সাম্রাজ্যবাদীরা । সম্প্রতি বিনার বিজ্ঞানী সমিতির সাধারন সভা শুরুর আগেই ডিজির সমর্থিত বহিরাগত দুষ্কৃতীরা নির্বাচিত বিজ্ঞানী সমিতির কমিটির লোকজনকে মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫ জন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহতরা হলেন- রাশেদুল হক রাজু (৩০) ও সোহেল রানা (২৯) আব্দুর রউফ(২৮)। তবে তাৎক্ষনিক আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিনার ক্লাস রুমের বারান্দায় এ মারপিটের ঘটনা ঘটে। বিনা সংশ্লিষ্টরা জানায়, ঐদিন বিজ্ঞানী সমিতির সাধারন সভা ছিল। সভা শুরু আগেই সভাস্থলের বাইরের করিডোরে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েক জনের জামা ছিঁড়ে ফেলে কিল-ঘুষি দিয়ে আহত করা হয়। বিগত সময়ে বিনার ডিজির বিরুদ্ধে  বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ  জাতীয় দৈনিকে একের পর এক  সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনা অভিযুক্ত কর্তাব্যাক্তিদের।’বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে ডিজির ক্ষমতার অপব্যবহার’’-এই শিরোনামে গত ১৭ জানুয়ারি সংবাদ প্রকাশিত হয় দৈনিক ভোরের পাতায়।অভিযোগ উঠেছিলো, বিনার বর্তমান ডিজি গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ এবং উপকেন্দ্রসমূহ উন্নয়ন র্শীষক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ১২এপ্রিল কৃষি মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব ড.আব্দুর রৌফের নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় ডিজি  মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম আপুর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পত্র প্রেরণ করেন। রহস্যজনক কারণে তা ধামাচাপা দিয়ে লবিংয়ের জোরে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে ড.মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম ডিজি পদ ভাগিয়ে নেন। একটি সুত্রের অভিযোগ, ডিজি পদ লাভ করেই ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন।ক্ষমতা পেয়েই  সিনিয়র বিজ্ঞানীদের কক্ষে কক্ষে বসিয়েছেন সিসি ক্যামেরা। এতে বিজ্ঞানীরা  বিব্রত বোধ করলেও মুখ খুলতে সাহস করেনি কেই। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছিলেন প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন  পরিচালক (গবেষনা) ড. হুসনে আরা বেগম। তিনি জানিয়েছিলেন, তার রুমে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।  এতে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু কি বলব, এ নিয়ে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (প্রশিক্ষন ও পরিকল্পনা) ড. জাহাঙ্গীর আলমের মন্তব্য , ডিজি মহোদয় আমাদের জুনিয়র। তিনি ডিজি হয়েছেন লবিংয়ে। এনিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে তিনি কেন আমাদের কক্ষে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন তা বুঝতে পারিনি। লজ্জায় উনাকেও কিছু বলিনি। তাছাড়া চাকরী করি সব কথা বলতেও পারছি না। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে  খোদ প্রতিষ্ঠান প্রধানের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় সহ  প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে সৃষ্টি হয়েছিলো মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।অভিযোগ রয়েছে,  প্রতিষ্ঠানটির আউটসোর্সিয়ে ৩৫ জন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় খোদ ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের অন্যায় ও অবৈধ হস্থক্ষেপের ঘটনায় কৃষি মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন  গ্লোবাল ফার্স্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী হাওলাদার। এ ঘটনায় তিনি  হাইকোর্টে  একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে বিনা মহাপরিচালক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের আস্থাভাজন এক ব্যক্তিকে দুটি প্রকল্পের পিডি করে রেখেছেন। অথচ ‘একজন কর্মকর্তা একাধিক প্রকল্পের পরিচালক’ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে দ্রত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চলতি বছরের ২০ জানুয়ারী কার্যালয়ের এক চিঠিতে আদেশ জারী করা হয়। কিন্তু ওই আদেশের পরও পরমানু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের দু’টি প্রকল্পে ড. শহীদুল ইসলাম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বহাল তবিয়তে দ্বায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রকল্প দু’টি হল- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড ও চর হাওড় উত্তর অঞ্চল পাহাড়ী প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে, বিনার বিগত এসআরএসডি প্রকল্পে ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম গবেষনা কাজের জন্য সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ নিয়ে নিন্মমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় করেন । যা ব্যবহার করার আগেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে বছরের পর বছর ওই সকল যন্ত্রপাতি স্টোর রুমে ফেলে রেখে নষ্ট করা হয়। পরে এই যন্ত্রাংশগুলো নিলামে নাম মাত্র মুল্য বিক্রি করা হয়। এখানেই শেষ নয়। বর্তমান মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। তাদের ভাষ্যমতে, কৃষি মন্ত্রনালয় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ এক অফিস আদেশে বিনার মহাপরিচালক পদে মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামকে মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পদে নিয়োগ দেন। কিন্তু দ্বায়িত্ব পেয়ে ড.মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম ‘ভারপ্রাপ্ত’ মানতে নারাজ।গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এক আদেশে বিনার ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলির আদেশ দেওয়ায় বিনার বিজ্ঞানী সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষুব্ধ বিজ্ঞানী সমিতি চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী এক জরুরী সভায় বদলির আদেশে অসঙ্গতি উল্লেখ করে আদেশ পুর্নবিবেচনার জন্য ৮ দফা দাবি জানিয়ে রেজুলেশন পাশ করেন। বিনার চাকরিচুত্য কর্মচারী শিবলী সাদিক জানান, টানা ১৭ বছর দৈনিক মুজুরী ভিত্তিতে ড্রাইভার পদে কর্মরত থাকার পর তুচ্ছ ঘটনায় আমিসহ ৩ জন ড্রাইভারকে মহাপরিচালক প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে চাকরিচুত্য করেছেন। এতে আমরা পরিবার নিয়ে অসহায় জীবন-যাপন করছি। এছাড়াও একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর বর্তমান মহাপরিচালক বিনার বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে এবং তাঁর সহধর্মীনি শামসুন্নাহার বেগম যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন।
    তবে এসব অভিযোগ প্রসংঙ্গে  বিনার ডিজি  মির্জা মোফাজ্জলের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ফোনে ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোন উত্তর দেননি।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি মন্ত্রনালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্সটিটিউটে এমন অরাজকতা মেনে নেয়া যায়না। মন্ত্রনালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঠিক নজরদারি না থাকলে গবেষণাধর্মী এ প্রতিষ্ঠানটি জনকল্যানে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *