ময়মনসিংহে সমাবেশ মির্জা ফখরুল :ক্যাসোনোর চেয়েও ভয়াবহ দুর্নীতি হচ্ছে সরকারের ভোট ডাকাতি

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ক্যাসোনোর দুর্নীতির চেয়েও সরকারের বড় দুর্নীতি হচ্ছে ২৯ শে ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতি। এই সরকার ভোটের সরকার নয় ভোট ডাকাতির সরকার। আওয়ামীলীগ সরকার একটি দুর্নীতিবাজ সরকার। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সব লীগেই দুর্নীতিতে ভরা। সাধারন মানুষ কোন দুর্নীতিবাজ সরকারকে চায় না।
তিনি বলেন ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীদের আন্দোলনেই পারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে। তাই অচিরেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহে বিএনপির সমাবেশে লোকজনের উপস্থিতিই প্রমাণ করে মানুষ বিএনপিকে কত ভালোবাসে। সমাবেশে আসতে অবৈধ সরকার নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছে। আগামী দিনে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তিনি আরো বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের অনিয়ম দুর্নীতির কারনেই আওয়ামীলীগ থেকে সাধারন মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এক সময় ঢাকা শহর মসজিদের শহর থাকলেও বর্তমানে ঢাকাকে ক্যাসোনো শহরে পরিণত করেছে আওয়ামীলীগ। কেন্দ্রীয় বিএনপির অন্যান্য নেতারাও সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় নগরীর রেওলয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র স্থানীয় কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসন নয়টি শর্তে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। বেলা বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দলটিকে এ অনুমতি দেওয়া হয় । বেঁধে দেওয়া ৯ টি শর্ত হচ্ছে- সমাবেশে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে মাইক ব্যবহার করা যাবে না, চলাচলে যানবাহনে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না, মাগরিবের নামাজের পূর্বে সমাবেশ সমাপ্ত করতে হবে, সমাবেশস্থলে কোনো ধরনের লাঠি এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না, আশপাশ এলাকা থেকে মিছিল সহকারে সমাবেশে প্রবেশ করা যাবে না, সমাবেশ শেষে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না ও দ্রত সমাবেশস্থল ত্যাগ করতে হবে। সেই শর্ত ভেঙে দলের নেতাকর্মীর ঢল নেমে পড়ে সমাবেশস্থলে। এদিকে সমাবেশে যোগ দিতে বিভাগের ৪ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে থাকে। এ কারণে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় কৃষ্ণচূড়া রেলওয়ে চত্বর।
এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন থাকা সদস্যরা মিছিলে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ করেন বিএনপির নেতারা।