জার্নাল ডেস্ক
26 September 2021
  • No Comments

    ওরা ট্রেনের পেশাদার ছিনতাইকারী, সুযোগ বুঝে করত ডাকাতিও’

    নিজস্ব প্রতিবেদক : 


    ট্রেনের ছাদে ছিনতাই ও দুই হত্যায় জড়িত গ্রেফতারকৃত ৫ আসামি পেশাদার ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে র‍্যাব-১৪’র অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. রোকনুজ্জামান। 
    তিনি জানান, গ্রেফতাররা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা ট্রেনের পেশাদার ছিনতাইকারী। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা ছিনতাই করত। সুযোগ বুঝে কখনো কখনো করত ডাকাতিও করে। 
    রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‍্যাব-১৪ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে তিনি এসব তথ‍্য নিশ্চিত করেন। 
    গ্রেফতারকৃতরা হল- ময়মনসিংহের শিকারিকান্দা এলাকার আশারাফুল ইসলাম স্বাধীন (২৬), বাঘমারা এলাকার মাকসুদুল হক রিশাদ (২৮), মো. হাসান (২২), রুবেল মিয়া (৩১) ও মোহাম্মদ (২৫)।
    শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রথমে আসামি স্বাধীনকে গ্রেফতারের পর চেইন অপারেশন চালিয়ে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়। 
    এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১২টি মোবাইল সেট উদ্ধার ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলেও প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে জানানো হয়। 
    উইং কমান্ডার মো. রোকনুজ্জামান আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত চক্রটি নিয়মিতভাবে ট্রেনে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছে। এরা ঢাকার কমলাপুর, এয়ারপোর্ট ও টঙ্গী রেলস্টেশন থেকে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশে ট্রেনে উঠতো এবং তাদের কিছু সহযোগী গফরগাঁও ফাতেমা নগর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে সম্মিলিতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই করে ময়মনসিংহ স্টেশনে নেমে যেত। 
    র‍্যাব আরও জানায়, এ চক্রটি প্রথমে টার্গেট শনাক্ত করে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কেউ নিরাপত্তা দিত, কেউ লুষ্ঠিত মালামাল সংগ্রহ করে বিক্রি করত আর বাকিরা সরাসরি ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত থাকত। 
    গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদে ডাকাতির এ চক্রের ছিনতাইয়ের পরিবর্তে ডাকাতির পরিকল্পনা করে বলেও জানান র‍্যাবের উইং কমান্ডার মো. রোকনুজ্জামান।
    তিনি বলেন, ট্রেনে ডাকাতির উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চারজন পেশাদার ডাকাত দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে উঠে। রিশাদ, হাসান এবং স্বাধীন টঙ্গী স্টেশন থেকে তাদের সাথে যুক্ত হয়। পরে ট্রেনটি ফাতেমা নগর স্টেশনে থামলে তাদের সাথে যােগ দেয় মােহাম্মদ ও তার একজন সহযােগী। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করলে তারা ইঞ্জিনের পরের বগির ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মােবাইল ফোন লুট করা শুরু করে।
    পরে ডাকাতির একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নিহত সাগর মিয়া ও নাহিদ বাধা দিলে তাদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় ডাকাতরা তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সাগর ও নাহিদ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়ে। তখন ডাকাতরা ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে ঢোকার আগেই সিগন্যালে ট্রেনের গতি কমলে ট্রেন থেকে তারা নেমে যায়। 
    র‍্যাব-১৪’র অধিনায়ক বলেন, ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রিশাদ, স্বাধীন, মােহাম্মদসহ অজ্ঞাত কয়েকজন সরাসরি ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত ছিল। আর টার্গেট শনাক্ত করার দায়িত্বে ছিল হাসান। এরপর লুষ্ঠিত মােবাইল ও অন্যান্য মালামাল কম দামে এই চক্রের কাছ থেকে সংগ্রহ করত এবং অন্যদের কাছে বেশী দামে বিক্রি করত রুবেল। পাশাপাশি চক্রটির পৃষ্ঠপােষকও বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। 
    গ্রেফতারকৃতদের মধ‍্যে রিশাদ এই চক্রের মূল হোতা। তার নামে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা ও কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। সে দুই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে ছিল।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *