জার্নাল ডেস্ক
25 August 2021
  • No Comments

    ত্রিশালে দু’দিনব্যাপী ঐহিত্যের লাঠি খেলা সমাপ্ত


    নিজস্ব প্রতিবেদক:  
    এক সময়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গ্রাম-বাংলার কৃষক সমাজের ঐতিহ্য ছিল লাঠি খেলা। সাধারণত নবান্ন শেষে বা বর্ষা মৌসুমে শুরুর দিকে এ খেলার আয়োজন হত গ্রাম-গঞ্জে। কিন্তু এ সংস্কৃতি এখন বিলুপ্তির পথে। আর এ কারণেই বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য ময়মনসসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া এলাকায় দু’দিনব্যাপী এ খেলার আয়োজন করে একটি দল।  

    বুধবার (২৫ আগষ্ট) দুপুরে উৎসব আমজের মধ্য দিয়ে উপজেলার বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদলের নিজ বাড়িতে এ খেলার সমাপ্তি ঘটে।

    এতে অংশ নেয় স্থানীয় কয়েক গ্রামের সমন্বয়ে ২৪ সদস্যের একটি দল। স্থানীয় প্রবীণ মো: আলী হোসেনের পরিচালনায় খেলার টিম ম্যানেজার ছিলেন মো: সিরাজুল ইসলাম। তারা দু’জনেই এ খেলার অভিজ্ঞ উস্তাদ।  

    স্থানীয়রা জানায়, গত মঙ্গলবার সকালে বালিপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে আমিয়ান ডাঙ্গরী লালুর মোড়ে এ খেলার শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নছর উদ্দিন। এ সময় ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘন্টার শব্দে উৎসব আমেজ ছড়িয়ে পড়ে যেন আশপাশ এলাকাতেও। ফলে শিশু-কিশোর,কিষাণ-কিষাণী যুবক-যুবতি ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষেরা ছুটে আসে এই খেলা দেখতে। এ সময় তারা উৎসব আমেজে খেলা দেখে আনন্দ উপভোগ করেন।  

    খেলার শুরুতে লাঠিয়াল দলের সদস্যরা দু’টি দলে বিভক্ত হয়ে বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে লাঠি খেলে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। এরপর চলে লাঠির কসরত। এ সময় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে পাল্টা আঘাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রতিপক্ষের লাঠিয়ালরা। এসব দৃশ্য দেখে আনন্দিত দর্শকরাও করতালির মাধ্যমে উৎসাহ দেয় খেলোয়াড়দের।    

    এবিষয়ে খেলার টিম পরিচালক মো: আলী হোসেন বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা ৪০বছর ধরে নতুন লোকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে খেলোয়ার তৈরী করে প্রতি বছর খেলার আয়োজন করে আসছি। তবে অর্থ সংকটে উন্নত ভাবে খেলা প্রশিক্ষন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সহযোগীতা পেলে গ্রাম-বাংলার ঐহিত্যের এ খেলাটি ধরে রাখা সম্ভব বলে জানান তিনি।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *