জার্নাল ডেস্ক
11 August 2021
  • No Comments

    মসিকের বলাশপুরে হাঁটু পানিতে চলাচল, নেই তদারকি!


    নিজস্ব প্রতিবেদক:


    ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বলাশপুর এলাকার বাসিন্দারা পাঁচদিন ধরে হাঁটু পানিতে চলাচল করছেন। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে দুর্ভোগ লাঘবে নেই কোন উদ্যেগ। এমন পরিস্থিতিতে এলাকবাসীর মাঝে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিকগন বলছেন সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের অভাবে জলাব্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীর। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলছেন বর্ষা শেষ না হলে ড্রেন সংস্কারে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
    ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের আবাসিক এলাকা বলাশপুর। সেখানে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। আলিয়া মাদ্রাসা রোড থেকে মড়ল পাড়া হয়ে বলাশপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় গেল পাঁচদিন ধরে এই রাস্তাটি হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকের বাসার মধ্যে পানি উঠেছে। ম্যানহোলের ময়লা পানি সাথে মিশে একাকার হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
    বলাশপুরের বাসিন্দা সাংবাদিক খোকন আহমেদ বলেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন না থাকাই। নগরীর বিশেষ করে বলাশপুর এলাকার লোকজন দীর্ঘ দিন ধরেই চরম জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন। এসব দুর্ভোগের সঠিক তদারকিও নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সিটি করপোরেশনকে উচ্চ মূল্যে কর দিয়েও নাগরিক সব সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছি। এই রাস্তা নগরীর খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও অবহেলার শিকার হচ্ছি। বিগত দিনে বলাশপুরের এই রাস্তাঘাট এমন জলাবদ্ধতা ছিল না। মাঝে মধ্যে রাস্তার কাজ হলেও ড্রেন সংস্কারে কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার অনেক মানুষের মধ্যে পানি বাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে। আমরা এতোদিন ধরে পানিবন্ধী থাকলেও কেউ খোঁজ নেয়নি।

    মুদির দোকানী সুলতান আহম্মেদ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় দোকান পানিতে তলিয়ে যায় যাওয়ার অবস্থা। পানির জন্য এলাকার মানুষ ঘরবন্দি হয়ে বসবাস করছে।

    ময়মনসিংহের পরিবেশ আন্দোলনের সাধার সম্পাদক শিব্বির আহম্মেদ লিটন বলেন, ময়মনসিংহে জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকগুলো প্রকল্প হয়েছিলো এই প্রকল্পগুলোর আলোর মুখ নগরবাসী এখনো দেখতে পারে নাই। কতৃপক্ষের জলাব্ধতা নিরসনে নগরবাসীর কাছে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা কিভাবে আছে বিষটি পরিস্কার না। প্রকল্পগলোর পরিকল্পনায় ছিলো ময়মনসিংহের কোথাও জলাবদ্ধতা হবে না। এই এলাকায় পানি চলে যাওয়ার জন্য একটি অধুনিক নিস্কাশন ব্যবস্থা করা হয়েছিলো বলে আমি জানি। এখন কেন জলাবদ্ধতা হচ্ছে এই প্রশ্ন আমারও ?

    ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্বাস উদ্দিন মন্ডল বলেন, জলবদ্ধা নিরসনে আমাদের নানামুখী কর্মসূচি ছিল। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো করোনার জন্য কিছু করতে পারেনি। শুধু বলাশপুর নয় আশপাশের কয়েকটি এলাকায় পানিবন্ধী হয়ে অনেকেই দুর্ভোগের মধ্যে আছে।

    সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী আনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করা যাচ্ছে কাজ শুরু হলে মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।

    সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটু বলেন, বলাশপুর এলাকার মানুষ কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে বিষয়টি শুনেছি। এই মুহূর্তে আমাদের করার কিছু নেই। বর্ষা শেষ না হলে কাজ শুরু করা যাবে না। ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই জলাবদ্ধতা। এটি নিরসন করতে হলে ড্রেনের ভেতর ঢুকে পরিষ্কার করতে হবে। এখন পানির জন্য তা করা সম্ভব নয়। এলাকাবাসিকে একটু কষ্ট মেনে নিতেই হবে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *