তথ্য অধিকার আইন মানছেন না গৌরীপুরের পিআইও !

প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহে তথ্য অধিকার কমিশনের আইন মানছেন না জেলার গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো: আলমগীর হোসেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা দফায় দফায় তথ্য অধিকার আইনের ‘ক’ ফরম পূরণ করে আবেদন করলেও তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এনিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী মহলে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১১ মার্চ তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের টি.আর, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে উপজেলার মোট বরাদ্ধের পরিমাণ ও তালিকা, সোলার প্যানেল প্রকল্পের তালিকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সয়মসীমা জানতে চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিআইও’র কাছে লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় সংবাদকর্মী শাজাহান কবীর। একই তারিখে উপজেলার লন্ডনী খালের উপর নির্মানাধীন ব্রীজের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রাক্কলন ব্যায়, কার্যাদেশ চেয়ে ‘ক’ ফরম পূরণ করে আবেদন করেন সাংবাদিক মো: আ: কাদির। ওই আবেদনের পর প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তথ্য প্রদান করেননি দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমি নিজেই ভুক্তভোগী। ‘ক’ ফরম পূরণ করেও তথ্য পাইনি। মূলত সংশ্লিষ্টদের লাগামহীন দূর্নীতি ঢেকে রাখতেই আবেদন রিসিভ করে তথ্য প্রদানে র্দীঘসূত্রতার সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে লাগামহীন অনিয়ম-দূর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন পিআইও মো: আলমগীর হোসেন। কর্মসৃজন প্রকল্প, ত্রান ও দূর্যোগ প্রকল্প, কাজের বিনিয়ময়ে খাদ্য, কাজের বিনিময়ে টাকা সহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রানলয়ের সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে এ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মিয়াসহ একাধিক ইউপি সদস্যরা জানান, ৪০দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর নিয়ম থাকলেও উপজেলার কোন ইউনিয়নেই কর্মসৃজনের কাজ হয়নি। তবে দুই একটি ইউনিয়নে শ্রমিকের বদলে ভ্যকু মেশিনে নামমাত্র কাজ করে সমোদয় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভুয়া শ্রমিক তালিকা তৈরী করে পিআইও আলমগীর হোসেন ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বরাদ্ধের টাকা উত্তোলন করে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। অথচ শ্রমিকরা জানেই না তাদের নামে টাকা উঠছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ত্রান ও দূর্যোগ প্রকল্পে গৌরীপুর উপজেলা বরাদ্ধ পায় সোয়া এক কোটি টাকা। এ বরাদ্ধের অধীনে ৬টি কালর্ভাট ও একটি ইটের সলিং রাস্তা নির্মানে পিআইও আলমগীর হোসেন মোট ৭টি প্রকল্প তৈরী করে বরাদ্ধের প্রায় অর্ধেক অর্থ লুটপাট করেছেন।
তবে অভিযোগ বিষয়ে জানতে পিআইও মো: আলমগীর হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী ফারহানা করিম বলেন, তথ্য ফরমে আবেদন দেখে-ছিলাম। তবে তথ্য না পাওয়া বিষয়টি আমার জানা নেই। এক্ষেত্রে আপীল করার সুযোগ আছে।
এবিষয়ে জেলা তথ্য কর্মকর্তা আল ফয়সাল বলেন, কেন সংশ্লিষ্টরা তথ্য দিচ্ছে না, তা আমি বলতে পারছি না। তবে আপীলের পর কোন ভুক্তভোগী তথ্য কমিশনে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জরিমানা করার বিধান আছে। এবং আইন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমান হলে বিভাগীয় মামলাসহ বরখাস্থ হবারও বিধান রয়েছে আইনে।