জার্নাল ডেস্ক
9 June 2021
  • No Comments

    ২ মাস ১১দিন কমিটি শূন্য ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ !

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    নতুন কমিটি গঠন ও পদ প্রত্যাশী ইস্যুতে আশার ভেলায় ভাসছে ইতিহাস-ঐহিত্যগাঁথা সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ। ফলে টানা ২মাস ১১দিন যাবত কমিটি শূন্য ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব সংঙ্কটে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রমে। এনিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
    সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী সর্বশেষ ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়। এরপর রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে পরিক্ষীত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ৭ বার ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে জেলার নেতারা সুপারিশ করে কেন্দ্রে জমা দিলেও বিগত ৭ বছরে তা আলোর মুখ দেখেনি।
    অভিযোগ উঠেছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় র্শীষ নেতাদের অনৈতিক হস্থক্ষেপের কারণে টানা ৭ বার মুখ থুবড়ে পড়েছে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি। জেলার অধীনস্থ ইউনিট কমিটি গুলো গঠনেও বিগত সময়ে কেন্দ্রীয় গুটি কয়েক নেতার হস্থক্ষেপ ছিল নগ্ন। ছাত্রলীগ নেতাদের ভাষ্য, জেলা ও উপজেলার পদ-প্রত্যাশী কর্মীদের কেন্দ্রীয় নেতারা ডেকে নিয়ে কমিটি দেওয়া এবং পদ পাইয়ের দেবার কথা বলে জেলার রাজনীতিতে বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ জন্য গুটি কয়েক নেতা দায়ী বলেও অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।
    সূত্রমতে, সদ্য বিদায়ী ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব ও সাধারন সম্পাদক সব্যসাচী সরকার জেলার ১৩টি ইউনিটের মধ্যে ৪টি বাদে ৯টি ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর হস্থক্ষেপে চলতি বছরের ২৪মার্চ জেলার ত্রিশাল ও গৌরীপুর উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা বিদায়ী নেতারা। এ কমিটি অনুমোদনের মাত্র ৪দিন পর গত ২৮ মার্চ কেন্দ্রীয় দপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপিতে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। একই সাথে ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে একই দিনে জেলা ছাত্রলীগ গৌরীপুর ও ত্রিশাল উপজেলা কমিটি অনুমোদন দিলেও গৌরীপুর উপজেলা কমিটি বহাল রেখে ত্রিশাল উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। যদিও গৌরীপুর উপজেলা কমিটির নয়া নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। অথচ ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের ত্যাগী ও পরিক্ষীত নেতাদের গঠনতন্ত্র লঙ্গন করে তাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে একটি প্রভাবশালী মহলের আনুগত্যশীল না হওয়ার অপরাধে, এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের। এসব বিতর্কিত কর্মকান্ডে ক্ষোভ অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে।
    ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নওশেল আহম্মেদ অনি বলেন, যে ছেলেটি বিগত দশ পনের বছর ধরে ছাত্রলীগ করেছে, এখন তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। পদ না পাওয়ায় তারা এখন অবমূল্যায়িত। এতে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
    সদ্য বিদায়ী ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, ছাত্রলীগ আমাকে অনেক দিয়েছে, জননেত্রীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। তবে আশা করছি কোন ভাইয়ের লোক দিয়ে যেন নেতৃত্ব বাঁছাই না হয়। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা বিবাহিত নয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে দলের ত্যাগী পরীক্ষিত ও যোগ্য নেতৃত্ব চাই।
    সংগঠন সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য ১০দিনের সময় বেঁধে দিয়ে পদ-প্রত্যাশীদের বায়োডাটা আহবান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বিগত ৮ এপ্রিল এ সময় পেরিয়ে গেলেও কমিটি গঠনে নেই কোন তোড়জোর। তবে কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ মহানগরে পদ-প্রত্যাশী ৭৬ জন বায়োডাটা জমা দিয়েছে এবং জেলা কমিটিতে পদ-প্রত্যাশী হিসেবে ১৯০ জন বায়োডাটা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

    এবিষয়ে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ পুর্নগঠনে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শামস-ই-নোমান বলেন, পদ-প্রত্যাশীদের সিভি সংগ্রহ শেষে যাচাই-বাঁছাই কার্যক্রম চলছে। চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ে যোগ্য নেতৃত্ব বাঁছাই করে কমিটি গঠনের জন্য।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *