জনগণের সেবা করার অন্তিম ইচ্ছা যে নেতার

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাকিউল হক বুলবুল নামটা অনেকের অচেনা মনে হলেও এই মানুষটি দীর্ঘ দিন ধরে নিজ সুখের মায়া ত্যাগ করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। মাদারগঞ্জ উপেজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে বাকি জীবনটা মানুষের সেবা করে মরতে চান; এমনই অন্তিম ইচ্ছা তার। প্রচণ্ড মানসিক শক্তির অধিকারী এই নেতা। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রাজনীতিতে তার ভাটা পড়েনি।রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও মতবিরোধ থাকার পরও সকলেই স্বীকার করবেন যে বুলবুল সারা জীবন আ,লীগের রাজনীতি ও মির্জা আজমের বিশ্বস্ত কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন।শুরু থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ তার জন্য পাথেয় হিসাবে কাজ করেছে। ছোটবেলা থেকেই নিজ এলাকায় অসহায়, গরীব, দুখী মানুষের জন্য কাজ করে ভালোবাসা অর্জন করেন। রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করার পর নিজ ইউনিয়নের জনগণ তাকে অন্তরে ঠাঁই দিয়ে আন্তরিকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৬৭ সালের ৩ জানুয়ারি জামালপুেরর মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা ওয়াজেদ আলী চাঁন মাস্টার সিধুলী ইউনিয়ন আ.লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মাতা- জিন্নাতুন নেছা। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ১৯৯৬ সালের ১৬ জানুয়ারি কার্ণিজ ফাতেমা বীথি’কে জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহন করেন। পারিবারিক জীবনে তিন ছেলে। চর লোটাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবনের শুরু। ১৯৮২ সালে শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা এসএসসি, ১৯৮৫ সালে সরিষাবাড়ি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এইচএসসি ও ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

বাংলাদেশ আ.লীগ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার কারনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করাসহ অসহনীয় অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে তার পরিবার । পারিবারিক ভাবে রাজনৈতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জাকিউল হক বুলবুল ছেলেবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন। ১৯৯০ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে সিধুলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বুলবুল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় সমিতির শর্তানুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয় থেকে বিরত থাকেন। ১৯৯৭ সালে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সচিব এবং ১৯৯৮ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন । ২০০৪ সালে জামাত-বিএনপি’র রোষানলে পড়ে কারাবরণ করেন। ২০১২ সালে সিধুলী ইউনিয়ন আ.লীগ এর সহ-সভাপতি ও ২০১৫ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলা আ.লীগ এর সহ-দফতর সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
একজন সফল ব্যবসায়ী, সদালাপী ও স্পষ্ট ভাষী- জাকিউল হক বুলবুল রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সাংস্কৃতিক ক্রীড়া খেলা ধুলা সহ নানামুখী কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে চলেছেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি লোটাবর ছেরাতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। একাধারে তিনি একজন বি.সি.আই.সি ডিলার , রায়গঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও মাদারগঞ্জ উপজেলা বি.সি.আই.সি ডিলার এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।