জার্নাল ডেস্ক
14 March 2021
  • No Comments

    মাদারগঞ্জে কবিরাজের অপচিকিৎসায় পঙ্গু দিনমজুর

    মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:

    কবিরাজের অপচিকিৎসায় মাদারগঞ্জে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের চর ভাংবাড়ী গ্রামের আ: রশিদ নামে এক দিনমজুর পঙ্গু হয়ে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাঁর পা ভেঙে গেলে কবিরাজের ঝাড়ফুঁকে হাড় আরও স্থানচ্যুত হয়ে অনেকটা অকেজো হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন ।
    পবিার সুত্রে জানাগেছে , সম্প্রতি ঢাকায় রাস্তায় চলাচলের সময় একটি বাস পায়ের উপর উঠিয়ে দেয় এই আঘাতে তাঁর ডান পা ভেঙে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে পরিবারের লোকজন কম খরচ ও অল্প সময়ে হাড় জোড়া লাগানোর বিশ্বাস নিয়ে গ্রামে নিয়ে এসে তাঁকে নিকটবর্তী মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামে সাদা নামে এক কবিরাজের কাছে নেন।ওই কবিরাজের বাজারে একটি কাপড়ের দোকান ঘরেই হাড়ভাঙা ‘চিকিৎসাকেন্দ্র’ সেখানে বিভিন্ন ¯’ান থেকে হাড়ভাঙা রোগীরা ‘চিকিৎসা’ নিতে আসেন। কবিরাজের আস্তানায় তিনি ৩০ দিন গিয়ে চিকিৎস নিয়ে ছিলেন। প্রথম কয়েক দিন ভাঙা পায়ে গাছের ছাল-বাকল-লতাপাতা লাগিয়ে রাখা হয়। তারপর টানা ছয় দিন পায়ের দুই পাশে ইট দিয়ে চেপে রাখা হয়। পরে প্রতিদিন চলতে থাকে ঝাড়ফুঁক-মালিশ। এত কিছুর পরও সু¯’ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাড়ি চলে আসেন। চিকিৎসার খরচ হিসাবে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয় তাঁর। এদিকে আ: রশিদের পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে সাহয্য তুলে পরিবার চালিয়ে আসলেও বর্তমানে অর্থাভাবে না খেয়ে চলার উপক্রম হয়েছে। এই অপচিকিৎসাা কী করে দিনের পর দিন চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবসীর।
    পঙ্গু আ: রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীর পঙ্গু হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী আসমা ।স্বামীর ভুল চিকিৎসার জন্য কবিরাজের বিচার দাবী করেন।স্ত্রী আসমা জানান, এখন পর্যন্ত তাঁর হাড় ভাঙা জোড়া লাগেনি। অন্যের সাহায্য ছাড়া এখন তিনি চলাফেরাই করতে পারেন না। পরিবারের উপার্জকারী ব্যাক্তি পঙ্গু হওয়ায় স্বামীর চিকিৎসা তো দুরের কথা মানুষের সাহায্য নিয়ে সংসার চালাতে হ”েছ।
    এদিকে কবিরাজ সাদা দাবি করেন, তার বাবা এই গ্রামের প্রথম এই চিকিৎসাপদ্ধতি চালু করেন। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে চিকিৎসা করেছেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি বাবার পেশায় যোগ দিয়েছেন। তাঁর চিকিৎসা ঠিকই ছিল। কিন্তু‘ রোগ ভালো না হলে তাঁর কিছু করার নেই।
    তবে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা: প্রনয় কান্তি দাস বলেন , ওই ভুক্তভোগীকে আমার নিকট লিখিত দিতে বলেন। লিখিত পেলে কবিরাজের বিরুদ্ধে থানার ওসি,ইউএনও কে নিয়ে ভ্রম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হবে। লিখিত না দিলে কিছুই করতে পারবো না।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *