জার্নাল ডেস্ক
4 March 2021
  • No Comments

    খেতাব কারও দয়ার দান নয় : নজরুল ইসলাম খান  

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, খেতাব কারও দয়ার দান নয়। এটি মুক্তিযোদ্ধে সাহসীকতার অর্জন, রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। খেতাব দেয় রাষ্ট্র, এটি কেড়ে নেবার অধিকার কারও নেই। খেতাব নিয়ে টানাটানি করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করা।
    বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আল বারাকাহ কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিকদের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
    মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগের সাংবাদিকদের সাথে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, আমরা কখনোই দাবি করি না মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর নামেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতা। কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এটা অস্বীকার করছেন কেন ? জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কখনো কোন অসম্মানজনক উক্তি করার নজির নেই। তাহলে আপনারা কেন জিয়াউর রহমানের খেতাব নিয়ে টানাটানি করছেন। এ প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অসীম সাহসের জন্য যারা খেতাব পেয়েছে।
    এ সময় জামুকাকে উদ্দেশ্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, খেতাব নিয়ে কোন কিছু করার অধিকার জামুকার নেই। তাহলে তারা কিভাবে খেতাব নিয়ে টানাটানি করে, এটাতো তাদের কাজ না। তাদের কাজ হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই করা, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের জন্য কাজ করা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করা। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশের এই নতুন প্রজন্মকে জানতে দিন যে কি ঘটেছিল সেদিন, কেন ঘটেছিল এবং যা ঘটেছিল যে কারণে ঘটেছিল সেই কারণটা কি। ব্যর্থতার যে কারো থাকতেই পারে কিন্তু সাফল্যকে এড়িয়ে যাবেন রাজনৈতিক কারণে, তা হতে পারে না।
    বিএনপির এ স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিছু ব্যাতিক্রম বাদে সব রাজনৈতিক দলই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং মর্যাদা দেয়। কিন্তু বিএনপিই প্রথম স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের ব্যাপারে কমিটি করে দায়িত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দিয়েছে।
    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব শামা ওবায়েদ। সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছিলেন সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বর্তমান সরকার বিকৃত করার চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক হিসেবে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের আয়োজন করায় সরকারি দলের হৃদকম্পন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা উদযাপন কমিটির আহবায়ক কে ? আমরা জানতে চাই। তাদের দলে মুক্তিযোদ্ধা যারা ছিল, তাদেরকে ইতিমধ্যে দল থেকে বের করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ। স্বাধীনতা যুদ্ধে যার যতটুকু অবদান তা আমরা স্বীকার করতে চাই। সে যে দলেরই হোক। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা স্বীকার করতে চায় না।  দেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে মন্তব্য করে সালাম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটি চোরের দলে পরিণত হয়েছে। সে কারণে অন্যের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। গত কয়েক বছরে বিএনপির অনেক নেতাকে গুম হত্যা করা হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করে বেগম জিয়াকে আবার প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো।’
    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন, শরিফুল আলম, সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী, ফারজানা শারমিন পুতুল, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু, আলমগীর মাহমুদ আলম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, মাহাবুবুল আলম মাহাবুব, সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, আহাম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন, আবুল বাসার আকন্দ প্রমুখ।
    পরে দুপুরের পর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্টিত হয়। এ সময় নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ, উত্তর ও মহানগর বিএনপি সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *