জার্নাল ডেস্ক
17 February 2021
  • No Comments

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেও তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি নজররুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেও ভিসিসহ শিক্ষক- কর্মকর্তা-কর্মচারী  হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা । সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী  বিশ্ববিদ্যালয়টিতে  চাকরি করে কেউ দলীয় রাজনীতি করতে না পারলেও তাঁরা  বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন  দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে  দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ দিন থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত  প্রতিষ্টান হলেও তথ্য অনুযায়ী  মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)  আইনের সাথে সাংঘর্ষিক যদি কেউ চাকরিরত অবস্থায় দলের পদধারী নেতা হন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাহিরে সমালোচনা ঝড় বইলেও সাহস করে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

    চাকরি করেও কীভাবে  কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি,  শিক্ষক ,কর্মচারী  কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিসহ স্থানীয় ও জেলা কমিটির পদে আছেন বিষয়টি বোধগম্য নয় সচেতন মহলের। মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসির)  বিধিমালায় বলা আছে, চাকরি করে কেউ দলীয় পদে থেকে রাজনীতি করতে পারবেন না। বিশিস্টজনরা বলছেন  সরকারি দলের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য, সরকারি দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেনদরবার করা এবং সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ‘মিষ্টিভাব’ বজায় রাখায়  দলীয় পদে থেকেও চাকরী করে যাচ্ছেন তারা ।

    একটি সুত্রের প্রাপ্ত তথ্য হতে জানা গেছে, নজরুল বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বর্তমানে ত্রিশাল উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক  । চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিদ্ধার্থ দে বাংলাদেশ আ.লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ।  সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শফিকুল ইসলাম সাবেক  শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য । সহকারী অধ্যাপক, থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নুসরাত তানিয়া  বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য(ওমর ফারুক চৌধুরী-হারুন ভাইয়ের কমিটির) । বিশ্বিবিদ্যালয়ের  সেকশন অফিসার ইব্রাহিম খলিল  ত্রিশাল উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন  ময়মনসিংহ জেলা কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতিঅত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান ।

    গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ত্রিশাল কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ইব্রাহিম খলিলের  ত্রিশাল উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়কের পদটি নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। এর পর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তদের চাকরী  আর দলীয় পদ নিয়ে মুখোশ উম্মোচন এর  প্রতিযোগিতা।
    এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরীরত কেউ  রাজনৈতিক সংঘঠনের সাথে সম্পৃক্ত  থাকতে পারবে না। নিজেকে ময়মনসিংহ  জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের  উপদেষ্টা  স্বীকার করে বলেন কিছু শিক্ষক-কর্মচারী  রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বিষয়টি শুনেছি।অবশিষ্ট অপনি অবগত করলেন। তবে  বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার হুমায়ুন কবিরের সাথে এসব বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

    কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পদে নিযুক্ত থাকার বিষয়ে রেজিষ্টার হুমায়ুন কবির বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ৪৩ ধারার (৪) উপধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে বিশ্ববিধ্যলয়ের কোন কর্মকর্ত-কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না। এই বিধিমালা গুলো যদি কেউ অমান্য তবে তাকে চাকরি অথবা রাজনীতি দুইটির একটি করতে হবে। তার জানামতে ভিসি সাহেব ময়মনসিংহ জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের  উপদেষ্টা হিসাবে রয়েছেন। সেকশন অফিসার ইব্রাহিম  খলিল নামের একজন  চাকরিতে যোগদানের বেশ কিছুদিন পরে দলের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষের কাছে ।
    জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এডভোকেট নুরুজ্জামান খোকন তার সংঘঠন ত্রিশাল উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ইব্রাহিম খলিলের চাকরী  আর দলীয় পদ নিয়ে সমালোচনাকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে  বলেন, নজরুল বিশ্ব বিদ্যালয় তো রাজনীতি মুক্ত ।তবে ওইখানে কেন  রাজনীতি চলছে? বিশ্ব বিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্রে রাজনীতি করার সুযোগ আছে কি ? ওখানে ছাত্ররা রাজনীতি করছে, শিক্ষকদের পেশাজীবী সংগঠন আছে  এগুলো গঠনতন্ত্রে নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আ. লীগের একটি সহযোগী সংগঠন। নির্বাচন কমিশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রেজিষ্টেশন আছে কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক লীগের সরাসরি কোন রেজিষ্ট্রেশন নাই। সুতরাং আইনগত ভাবে কোন সহযোগী সংগঠনকে বিশ্ব বিদ্যালয় কতৃপক্ষ সরাসরি রাজনৈতিক দল ঘোষনা করতে পারে না। তারা কিভাবে চাকরি ও রাজনীতি করেন ।
    বিশ্বদ্যিালয়ে সেকশন অফিসার ও ত্রিশাল সেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক ইব্রাহিম খলিল  ত্রিশাল উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক পদে নিযুক্ত থাকার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে কথা বলবেন এছাড়া কোন বক্তব্য দিতে রাজী  নন তিনি। সরকারি চাকরিজীবী হয়ে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

    ওই প্রতিষ্টানে কর্মরত অনেকেই নাম না প্রকাশ করার শর্তে  প্রতিবেদকে বলেন, ‘আমরা জেনেও না জানার মতো। কারণ তাদের যোগাযোগ অনেক উপর পর্যায় পর্যন্ত। তাই অভিযোগ করে কোন লাভ হবে না, এবং ভয়ে কেউ অভিযোগও করে না।’
    বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসির) জন সংযোগ ও তথ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেন জানান, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা-আলাদা আইন রয়েছে। এইসব আইন সংসদে তৈরী করা হয়। মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসির) নিজস্ব কোন এখতিয়ার নেই আইন  তৈরী করার। তবে  মঞ্জুরি কমিশনের একটি নির্দেশনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী  লাভজনক প্রতিষ্টানে থাকতে পারবে না। প্রতিষ্টানে থাকতে হলে মঞ্জুরি কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *