জার্নাল ডেস্ক
15 February 2021
  • No Comments

    ময়মনসিংহে শিক্ষা প্রকৌশলের ভবন নির্মাণে অনিয়ম-গাফিলতি

    নিজস্ব প্রতিবেদক  :

    ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নে ২ কোটি ৮৮লাখ টাকা বরাদ্ধে লালখান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়ম-দূর্নীতি ও গাফিলতির অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলে।
    জানা যায়, ১৯৬৯ সালে স্থাপিত এ বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৮০জন। ২০২০সালের ৫ জানুয়ারি ৫টি শ্রেণিকক্ষ ভেঙ্গে নতুন ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু কাজ শুরুর পর ভবনের ভীম-পিলার নির্মাণ হলেও দীর্ঘ নয় মাস যাবত কাজ বন্ধ রেখে লাপাত্তা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শিলা কন্সট্রাকশন। এতে তদারকি কর্মকর্তাদেরও কোন সরবতা দেখা যায়নি। ফলে নির্মাণাধীন ভবনের রডে মরিচা ধরেছে। ত্রুটি দেখা দিয়েছে নির্মিত পিলারেও।
    অভিযোগ উঠেছে নির্মাণ কাজের তথ্য গোপনের। বিদ্যালয় শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশল বিভাগকে বার বার তাগিদ দেয়ার পরেও কত টাকা বরাদ্ধে কি কি কাজ হবে এসব বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থাপন করা হয়নি প্রজেক্ট প্রোফাইল।
    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মঞ্জুরুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের মূল একাডেমিক ভবনগুলো ভেঙ্গে গত বছরের জানুয়ারী মাসে কাজ শুরু করে ছিল ঠিকাদার। কিন্তু গত ৯ মাস যাবত কাজ বন্ধ। বার বার ঠিকাদার ও তদারকি কর্মকর্তাদের তাগাদা দিলেও তারা গাফিলতি করে কাজ ফেলে রেখেছে। এখন চলতি মাসে ক্লাস শুরু হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা কোথায় যাব। তিনি আরো জানান, নির্মাণকাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপন হয়নি প্রজেক্ট প্রোফাইল। এভাবেই তথ্য গোপন করে তারা কাজ করছে।
    স্থানীয় অভিভাবক আশরফুল আলমসহ আরো অনেকে জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদার বিশাল অঙ্কের বিল তুলে নিয়েছেন। অথচ এখনো কাজের কোন অগ্রগতি নেই।
    তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শিলা কন্সট্রাকশনের প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ভবন নির্মাণের শুরুতে জমি  বিরোধের কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিলো। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
    ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-প্রকৌশলী এটিএম গোলাম সাব্বির জানান, প্রজেক্ট প্রোফাইল স্থাপন হয়নি এটা আমার জানা ছিল না। ৭দিনের মধ্যে এটা স্থাপন করে নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হবে। তিনি আরো জানান, ৫৪০দিনের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা দুর্যোগে এখন সময় আরো বৃদ্ধি করা হবে।
    এসব বিষয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইউসুফ আলী বলেন, এ ধরনের একশ কাজ আমার চলছে। এখানে সাইনবোর্ড নেই, তাতে কি। অন্য জায়গায় তো আছে। মূলত শিক্ষকদের দলাদলি ও জমি বিরোধে নির্মাণ কাজে দেরি হয়েছে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *