জার্নাল ডেস্ক
26 January 2021
  • No Comments

    হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে বদলে গেছে জামালপুর পৌরসভা

    সাইমুম সাব্বির শোভন,জামালপুর:

    হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় বদলে গেছে জামালপুর পৌরসভার চিত্র। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার ছোঁয়ায় আধুনিক পৌরসভার কাতারের দ্বারপ্রান্তে এখন দেড়শ’ বছরের পুরনো জামালপুর পৌরসভা।

    দু’বছর আগেও যে সব রাস্তা খনা-খন্দকে ভরা ছিল, সে সব রাস্তা কংক্রিটের নির্মিত হয়েছে । শহরের জলাবদ্ধতা দুর করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আরসিসি ড্রেন। এছাড়া সড়কবাতি, সুপেয় পানি সরবরাহে নতুন পাইপ লাইন স্থাপন, পরীক্ষামুলক ৩ গভীর, ৩টি উৎপাদকমুলক গভীর নলকুপ, ৩টি পাম্প হাউজ, ৩টি সাবমারসিবল পাম্প, ৩টি ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ ও আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণসহ গত ৫ বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩শ’ অবকাঠামোগত এবং পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রকল্পের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় বদলে জামালপুর পৌরসভার চিত্র। এতে বেড়েছে নাগরিক সুবিধা। এই উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে পৌরবাসীর সহায়তা চেয়েছেন জামালপুর পৌর সভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি।

    জামালপুর পৌর সভার তিন বারের নির্বাচিত মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুর আলম মনি জানান, তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অনুযায়ী পাঁচ বছরে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আর এ সব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় পৌর নাগরিকদের সেবার মান বাড়াতে পেরেছি। পৌরসভার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থায়ী কংক্রিটের সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন, পৌরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহে নতুন পাইপ লাইন স্থাপনসহ ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ স্থাপন, আধুনিক পানি শোধনাগার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার মসজিদ-মাদরাসার সংস্কার ও উন্নয়নসহ যে সব এলাকার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নাই সে সব এলাকা নলকুপ স্থাপনের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠির পরিবারগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জনগুরুত্বপুর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে কমিউনিট ও পাবলিক টয়লেট। করোনা প্রতিরোধেও প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনমুলক কাজ পরিচালনা এবং মাক্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাকালীন কর্মহীন ও দুস্থ্য পরিবারগুলোকে মানববিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, চলতি বছর উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (এডিপি) ৩ কোটি ৫০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যায়ে পৌর গোরস্থানের রাস্তা নির্মাণ, শিশুপার্কের জন্য দোলনা ক্রয়, বৈদ্যুতিক মালামাল ক্রয় ও শহর আলোকিত করণ কাজ করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে নগর উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় প্রায় পৌনে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭টি রাস্তা ও ড্রেন নির্মান করা হয়েছে।
    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় গুরুত্বপুর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প শহরের গুরুত্বপুর্ণ স্থানে ২০০টি তারাপাম্প, ৬টি কমিউনিট টয়লেট, ৫টি পাবলিক টয়লেট, ২টি গভীর নলকুপ স্থাপন ও ৬১ কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ৮ শহর ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৯২ কোটি টাকার ১৬টি গুরুত্বপুর্ণ সড়ক ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন ও অবশিষ্ট কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ৮ পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৬টি প্রকল্প চলমান, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প কুয়েত ফান্ডের মাধ্যমে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যায়ে ৪টি গুরুত্বপুর্ণ সড়ক ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, ৩ পৌরসভার পানি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন পাইপ লাইন স্থাপন, সড়কবাতি দিয়ে শহর আলোকিতকরণ, সুপেয় পানি সরবরাহে নতুন পাইপ লাইন স্থাপন, পরীক্ষামুলক ৩টি গভীর, ৩টি উৎপাদকমুলক গভীর নলকুপ, ৩টি পাম্প হাউজ, ৩টি সাবমারসিবল পাম্প, ৩টি ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল পাম্পহাউজ ও আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণসহ গত ৫ বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩শ’ অবকাঠামোগত প্রকল্পের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় বদলে গেছে জামালপুর পৌরসভার চিত্র।

    মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি বলেন, চলমান কাজগুলো বাস্তবায়ন হলে জামালপুর পৌরসভার কোন সড়ক ভাঙ্গাচোড়া থাকবে না এবং আগামী বর্ষা মৌসুমে শহরে কোন জলাবদ্ধতা থাকবে না। পৌর নাগরিকসহ বাইরে থেকে আগত মানুষ স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, তিনি যদি আবারও সুযোগ পান তবে দেড় শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী জামালপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে রূপ পাবে এবং নাগরিকরা পুর্ণ সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *