ময়মনসিংহে পরমাণু কৃষি গবেষণার ডিজির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির শাস্তির সুপারিশ

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের র্শীষ কৃষি গবেষনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিনা) ডিজি ড.মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছেন। এনিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিনার বর্তমান ডিজি গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ এবং উপকেন্দ্রসমূহ উন্নয়ন র্শীষক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত। ২০১৬ সালের ১২এপ্রিল কৃষি মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব ড.আব্দুর রৌফের নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় অভিযুক্ত মির্জা মোফাজ্জল ইসলামদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে বর্তমানে তিনি লবিং খাটিয়ে ডিজি পদ লাভ করে হরমামেশাই ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ তোলেছেন খোদ বিজ্ঞানী সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর বর্তমান ডিজি বিনার বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে এবং তাঁর সহধর্মীনি শামসুন্নাহার বেগম যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন। ওই নির্বাচনে তারা বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন। ওই ক্ষোভের কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এক আদেশে বিনার ৩৫জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বদলির আদেশ দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজ্ঞানী সমিতি চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী এক জুরুরী সভায় বদলির আদেশে অসঙ্গতি, তুচ্ছ ঘটনায় বিজ্ঞানীদের সাথে অশোভন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রেজুলেশন পাশ করেন।
বিনার বিজ্ঞানী সমিতি সাধারন সম্পাদক কৃষিবিদ হারুন অর রশিদ জানান, সমিতির সিদ্ধান্তমতে রেজুশেনের বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে।
তবে এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। তিনি বলেন, ইনটেনশনালি কারো কারো অভিযোগ থাকতে পারে। তবে বদলির আদেশে কোন ক্ষোভ বা অনিয়ম নেই। এতে মন্ত্রী মহোদয়সহ সবাই খুশি। তিনি দাবি করেন, বদলিকৃত ৩৫ জনের মধ্যে এক যুগের অধিক সময় ধরে বাইরে থাকা ৯ জনকে হেড অফিসে আনা হয়েছে। বাকি ২৬ জনের মধ্যে ২২জন বিজ্ঞানীকে ইন্টারনাল বদলি করা হয়েছে এবং বাকি আরো ৪ জনের মধ্যে ৩জন চাকরি জীবনে কোন দিন বদলি হয়নি এবং মাত্র একজনকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দ্বিতীয় বার বদলি করা হয়েছে। ডিজি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনেক পুরোনো। এটা শেষ হয়ে গেছে। মূলত উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ওই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছিল।