ময়মনসিংহে শত কোটি টাকার বিআরটিসি বাস কেন গলার কাটা

প্রকাশিত: ১:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাসরোডে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের(বিআরটিসি) বাস রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।একটি মহলের সাথে বিআরটিসির বাস চলাচল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ১৯টি বাস ঢাকা ডিপোতে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।ময়মনসিংহে বিভিন্ন রুটে চলাচলের কিছুদিন না যেতেই বাসগুলো চলাচলে অদৃশ্য নিষেধাঞ্জা চলে। কোটি-কোটি টাকা মুল্যর বিআরটিসি বাসগুলো রাস্তায় চলাচলে কেন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে বিশেষ মহলের এ নিয়ে ভিতরে-বাহিরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ময়মনসিংহবাসীর।
সংশ্রিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে ময়মনসিংহ শহর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বিআরটিসির বাস সার্ভিস যাত্রীদের সেবা দেওয়ার উদেশ্য চালু হয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা রুটে ৬টি, নান্দাই ৭টি, ফুলপুর রুটে ৫টি ,ত্রিশাল ৬টি সর্ব শেষ নেত্রকোনা জেলায় আরও ৫টি নতুন বিআরটিসি বাস যুক্ত কারা হয়। এসব বাস ইজারার মাধ্যমে চলাচল করছিল।বাসের সার্ভিস সন্তেষজনক হওয়ায় বিআরটিসি বাসে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে।এই ভালো সেবাটিকে ময়মনসিংহে একটি মহলের চক্ষুশূল হয়ে দাড়াই। যে কারনে ওই বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে এখন কোটি- কোটি টাকার বিআরটিসি বাসগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পরে রয়েছে।এই আঞ্চলের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা অনুযায়ী সরকার যখন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ঠিক তখনি সরকারের উন্নয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন একটি কুচক্রী মহল। বিআরটিসি বাসে যাত্রী চলাচলে অঘোষিত নিষেধাঞ্জা থাকায় শহরের গুরুত্বপুর্ন স্থান হতে বিআরটিসি বাসে যাতায়াত করতে পারছেন না যাত্রীরা। কাউন্টার হতে যেমন কোন যাত্রী তুলতে পাছেন না তেমনি একটি মহলের নেতাদের অক্রোমনের ভয়ে থাকতে হয় তাদের। ময়মনসিংহ নগরীরর সচেতন মহল মনে করছেন এ ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা জরুরী।
সোমবার (১১জানুয়ারী ) সরেজমিন অনুসন্ধানে নগরীর ময়মনসিংহ- ঢাক মহাসড়কের পাশে প্রায় ২৮টি অকেজো (বিআরটিসি) বাস পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রীসেবা আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেকে সামনে রেখে ১৯ সালের মাচ্র্ হতে বাসগুলো আনা হয়।এই বাসগুলোর একেকটির মূল্য প্রায় কোটি টাকা। অবহেলা ও অযন্তের কারণে বিআরটিসি বাসগুলো মেরামত করার মতো অবস্থাও এখন আর নেই। বাসগুলোর বাইরের কাঠামো কিছুটা দেখার মতো হলেও ভেতর অন্তসারশূন্য। বাসের অনেক যন্ত্রণাংশ হাওয়া হয়ে গেছে অনেক আগেই।এখন পড়ে আছে কেবল অন্তসারশূন্য বহির্কাঠামোটি।
বিআরটিসি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ বিআরটিসি বাস ডিপোতে ৪৭টি বাস ছিলো । তার মধ্য ১৯টি বাস ঢাকা ডিপোতে চলে গেছে।এখন ময়মনসিংহে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৮ বাস রয়েছে। করোকালীন সময়ের পরেও দীর্ঘ সাত মাস বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। বর্তমানে বাসগুলো চলাচলের প্রক্রিয়া আবার শুরু করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু সমস্যার জন্য বিআরটিসি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ২০২১ সালের জানুয়ারী হতে বাসগুলো রাস্তায় চলাচলের উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি বিআরটিসির বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন সাধারণ গণপরিবহনের শ্রমিকেরা। এ নিয়ে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পাটগুদাম টার্মিনাল এলাকায় বিআরটিসি বাসের শ্রমিকেরা তিনটি বাস রেখে চলে যান। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনার সময় হাতাহাতিতে তিনজন শ্রমিক আহত হন।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, ময়মনসিংহের বিভিন্ন সড়কে বিআরটিসির বাস চলাচল শুরুর সময় বলা হয়েছিল, সাধারণ পরিবহনের শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিআরটিসির বাসগুলো চলাচল করবে। কিন্তু চলাচল শুরু করার পর সাধারণ পরিবহনের শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করছেন না বিআরটিসি বাসের শ্রমিকেরা। প্রায় সব সড়কেই অধিকসংখ্যক বিআরটিসি বাস চলাচলে সাধারণ গণপরিবহনের ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে।