ময়মনসিংহে খাদ্য বিভাগের চাউল নিয়ে হরিলুট ! মুক্তাগাছায় ট্রাক ভর্তি চাল আটক, হালুয়াঘাটে গুদাম সিলগালা

প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহে খাদ্য বিভাগের সরকারী চাউল নিয়ে হরিলুট চলছে। বুধবার সন্ধ্যায় মুক্তাগাছায় থানা পুলিশের হাতে আটক হয়ে ট্রাক ভর্তি সরকারী চাল। একই দিনে মজুদ ঘাটতি ও নিন্মমানের চাউল সংরক্ষনের অভিযোগে সিলগালা করা হয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলার নাগলা খাদ্য গুদাম। এনিয়ে জেলা খাদ্য বিভাগের ভেতরে-বাইরে তোলপাঁড় সৃষ্টি হয়েছে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি আলী মাহমুদ চাউল আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি ট্রাক ভর্তি চাউল আটক করা হয়েছে। তবে ট্রাক ড্রাইভার পালিয়েছে। শুনেছি এই চাউল কোন একটি সরকারী দপ্তরে নেওয়ার কথা ছিল। তবে কে এই চাউলের মালিক, তা এখনো সঠিক ভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে মুক্তাগাছা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: খলিলুর রহমান জানান, আটক চাউল গুদামের না। গুদামের মজুদ ঠিক আছে। আটক চাউলের বিষয়ে আমি অবগত নই।
সূত্র জানায়, মুক্তাগাছার প্রভাবশালী মিলার কামাল মাষ্টার ও আ: হালিম ভিজিএফ এর বরাদ্ধকৃত চাউল বাইরে থেকে কম মূল্যে ক্রয় করে বিতরণে সরবরাহ করেন। এই অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। পরে তারা ছয় শত টন পুরাতন চাল মুক্তাগাছার গুদাম কর্মকর্তা এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ম্যানেজ করে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় গুদামে ঢুকিয়ে বিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা রাজি না হওয়ায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।
এবিষয়ে মিলার কামাল মাষ্টার বলেন, আমরা খাদ্য বিভাগের সাথে কাজ করি সত্যি। তবে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পুরোটা সত্য নয়।
এদিকে হালুয়াঘাটের নাগলা খাদ্য গুদাম সিলগালা করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার। তিনি জানান, বুধবার বিকেলে গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। তবে এখনো পরিদর্শন করা হয়নি।
সূত্র জানায়, নাগলা গুদামে কম মূল্যে ৬০টন পুরাতন চাউল ক্রয় করে মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়াও ওই গুদামে মজুদ ঘাটতি রয়েছে বেশ কিছু চাউল। এমন অভিযোগেই গুদাম সিলাগালা হয়েছে।
তবে গুদাম ইনর্চাজ হালুয়াঘাটের উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, গুদামের মজুদ ঠিক আছে। মজুদে কোন ধরনের অনিয়ম নেই।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে গুদাম পরিদর্শন করে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
তবে এসব বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মুক্তাগাছা গুদামের মজুদ ঠিক আছে। আটক চাউল গুদামের নয়। অপরদিকে হালুয়াঘাটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্বায়িত্ব হস্থান্তর নিয়ে নিজেদের অভ্যান্তরিক কোন্দলের কারণে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় গুদাম সিলাগালা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয়।