নান্দাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মদদে কাবিখা প্রকল্পে সীমাহীন লুটপাট

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) নন সোলার ১ম ও ২য় পর্যায়ে ৩২০ (যার সরকারি বাজার মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ ১৮ হাজার টাকা।) মেট্রিক টন চাউল ও গম আত্মসাত করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকল্প কর্মকর্তা আবদুল আলীমের নেতৃত্বে সীমাহীন লুটপাট চলছে মর্মে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে প্রদত্ত অভিযোগে বলা হয় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও (কাবিখা বিশেষ) ২৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩২০ টন চাউল/গমের কোন কাজ না করেই সাকুল্য চাউল/গম প্রকল্প চেয়ারম্যানগণ আত্মসাত করেছেন। করোনা মহামারী দুর্যোগকালেও আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু হাইব্রীড নেতা প্রকল্প চেয়ারম্যান হয়ে প্রকল্প কর্মকর্তার সহযোগিতায় সরকারি মালামাল লুটপাটে মেতে ওঠেছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের কিছু কিছু ক্ষেত্রে হতদরিদ্রদেও দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ ভাগ কাজ করিয়ে পুরো অর্থই আত্মসাত করছে প্রকল্প কর্মকর্তারা। অভিযোগে আরো বলা হয় যে, প্রতি জুন মাসে নান্দাইল উপজেলা থেকে বিগত ১০ বছরে সরকারি কোষাগারে কিছু চাঊল/গম ফেরত গেলেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কোন চাউল/গম ফেরত যায়নি। এ বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাইব্রীড আওয়ামী লীগের এই চক্রটি ২০১৩ সাল থেকে এযাবতকাল পর্যন্ত নান্দাইলে বিশেষ প্রকল্প তথা কাবিখা/ কাবিটা ও টি আর প্রকল্পের সমস্ত টাকা/চাউল/গম আত্মসাত করে আসছে। এবিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকগণ গত ২৯ অক্টোবর তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করার পর মহাপরিচালক অভিযোগ তদন্ত করে জরুরী ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্প কর্মকর্তা আবদুল আলীম ইতিপূর্বে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় কর্মরত থাকার সময় একইভাবে দুর্নীতি করেছেন বলে জানা গেছে।