নারী নির্যাতন মামলায় মেলান্দহ পৌরসভার কর্মচারী কারাগারে

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২০

সাইমুম সাব্বির শোভন,জামালপুর :

সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অপহরণের চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলায় গত ২১ দিন যাবৎ কারাগারে রয়েছে জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার অফিস সহায়ক (পিয়ন) সৈকত হোসেন আকাশ।

সরকারি চাকুরী বিধি অনুযায়ী সরকারি বা শায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী যে কোন মামলায় জেল হাজত বা কারাগারে গেলে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করার বিধান থাকলেও রহস্যজনক কারণে মেলান্দহ পৌর কর্তৃপক্ষ তা করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে মেলান্দহ পৌর সভার সচিব শরিফুল ইসলঅম ভুঞা বলেন, পৌর কর্মচারী সৈকত হোসেন আকাশ জেল হাজতে বা কারাগারে রয়েছে এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে আদালত বা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন তথ্য গেলে চাকুরী বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা গ্রামের জনৈক হাফিজুর রহমান তার মেয়ে হিমী আক্তার ছোয়াকে বিয়ে দেন মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের মৃত সুজন মিয়ার পুত্র সৈকত হোসেন আকাশের কাছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকলেও এক পর্যায়ে বাবার বাড়ি চলে যান। পরে এক বছর আগে যৌতুক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্রুনালে পৃথক দুটি মামলা করেন হাফিজুর। এসব মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয় আকাশ ও তার বাবা-মা’র বিরুদ্ধে। যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা থেকে রক্ষা পেতে বিয়ে রেজিষ্ট্রির সময় সাড়ে ৪ লাখ টাকার কাবিনকে রেখেই নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ফের দেড় লাখ টাকার কাবিন করেন এবং আদালতে জমা দেন সৈকত হোসেন আকাশ। এই ঘটনায় নিকাহ রেজিষ্ট্রারসহ (কাজী) আকাশের বিরুদ্ধে আরো একটি জালিয়াতি মামলা করেন হাফিজুর রহমান। এসব মামলা তুলে নেয়ার জন্য আকাশ বার বার হুমকী দেয়ার পাশাপাশি আদালতে হাজিরা দিতে আসার সময় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে হাফিজুর তার মেয়ে ও স্বাক্ষীদের উপর হামলা করেন। আসামীদের অব্যাহত হুমকী ও হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাফিজুর ও তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জামালপুর সদর ও মাদারগঞ্জ থানায় দু’টি সাধারণ ডায়েরী করেন।

হাফিজুরের অভিযোগ, মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামীদের হুমকী, হামলা বিষয়ে থানা পুলিশকে অবহিত করা পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমন কি আসামী আকাশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাজারীর পরও প্রকাশ্যে পৌরসভায় চাকুরী করলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেননি।
উল্টো গত ১৭ নভেম্বর কাবিননামা জালিয়াতির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জামালপুর জেলা রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে হাফিজুর তার মেয়ে ও স্বাক্ষীরা স্বাক্ষ্য দিতে এলে আদালতে গ্রেফতারী পরোয়ানার আসামী আকাশ ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে শহরের ফৌজাদরী মোড় এলাকায় তাদের উপর হামলা চালান এবং অপহরণের চেষ্টা করেন। এসময় তিনি আতœরক্ষার জন্য পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকাশকে গ্রেফতার করে। সদর থানা পুলিশ বিষয়টি মেলান্দহ থানা পুলিশকে অবহিত করলে সেখান থেকে পুলিশ গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল দেখিয়ে ১৮ নভেম্বর আকাশকে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে বিজ্ঞ বিচারক আকাশের জামিন না মঞ্জুর করে জেলা হাজতে প্রেরণ করেন।

মামলার বাদী হাফিজুর রহমান স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিবকে মেলান্দহ পৌর সভার অফিস সহায়ক (পিয়ন) সৈকত হোসেন আকাশ নারী নির্যাতন মামলায় জেলা হাজতে রয়েছে বিষয়টি লিখিত ভাবে অবহিত করেন এবং মেলান্দহ পৌর সভার সচিবকে অনুলিপি দেন। তার অভিযোগ লিখিত ভাবে অভিযোগ করা এবং পৌর কর্মচারী আকাশ জেলা হাজতে থাকার বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরও পৌর কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি। চাকুরী বিধি অনুযায়ী জেল হাজতে থাকা পৌর কর্মচারী আকাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এবিষয়ে মেলান্দহ পৌর সভার সচিব শরিফুল ইসলাম ভুঞার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেককে বলেন, পৌর কর্মচারী সৈকত হোসেন আকাশ জেল হাজতে বা কারাগারে রয়েছে এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে আদালত বা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন তথ্য পেলে চাকুরী বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।