বাকৃবি শিক্ষকদের অবৈধ কোরবানি হাট, পাহাড়ায় পুলিশ !

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:ময়মনসিংহে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা অমান্য করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(বাকৃবি) এলাকায় ফসিলের মোড় নামক স্থানে অবৈধ কোরবানির হাট বসিয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এতে সংশ্লিষ্টরা অবৈধ ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা লাভবান হলেও রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের বাজার পরিদর্শক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৈধ হাটগুলোর তালিকাসহ প্রশাসনে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। এর বাইরে কোন অবৈধ হাট বসলে প্রশাসন ব্যব¯’া গ্রহন করবে। শুনেছি পূর্বাশা ক্লাবের নামে ওই অবৈধ হাটের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জড়িত। কিন্ত এভাবে হাট বসানোর কোন নিয়ম নেই।
কোরবানি হাটের ইজারাদার আর.এইচ এন্টাপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, বাকৃবি এলাকার পূর্বাশা নামক একটি ক্লাব অবৈধ ভাবে স্থানীয় ফসিলের মোড় নামক স্থানে কোরবানি পশুর হাট বসিয়েছে। এতে আমি ব্যাপক ভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে লিখিত ভাবে অবহিত করে অপসারনের দাবী জানানো হলেও এখন পর্যন্ত অবৈধ হাট বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। উল্টো অবৈধ হাট পাহাড়া দিচ্ছে পুলিশ।
বাকৃবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ এস.আই ইব্রাহীম খলিল বলেন, হাট ইজারার কোন কাগজপত্র আমি দেখিনি। তবে প্রক্টর স্যারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আমি হাটের নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব পালন করছি।
বাকৃবির প্রক্টর প্রফেসর ড. আজাহারুল হক বলেন, গরুর হাটের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। পুলিশকে আমি বাজার পাহাড়া দিতে বলিনি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদেরকে টহল দিতে বলা হয়েছে।
বাকৃবি পূর্বাশা ক্লাবের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হাদি বলেন, আমি ক্লাবের সভাপতি। তবে হাটের বিষয়ে জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আ: রহিম মিন্টু ভালো বলতে পারবেন। তিনিই বাজার নিয়ন্ত্রন করছেন। কিন্ত একাধিকবার যোগাযোগ করেও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আ: রহিম মিন্টুর বক্তব্য জানা যায়নি।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন সূত্রমতে, এবার ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬টি হাট মোট ৭৪ লাখ ১শত টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। হাটগুলো হল- সার্কিট হাউজ, জয় বাংলা ছাইত্ত্যান কান্দা, বাকৃবি ১নং গেইট, ঘন্টি রহমতপুর, সুতিয়াখালী জিতেন্দ্রগঞ্জ ও শিকারীকান্দা। দুই প্যাকেজে ৭১ লাখ এবং ৩ লাখ ১ শত টাকায় পৃথক ভাবে এ হাটগুলো বৈধ ঠিকাদারদের মাঝে ইজারা দেয়া হয়েছে। এর বাইরে আর কোন সিটি এলাকায় আর কোন বৈধ হাট নেই বলেও জানান তিনি।
সূত্র জানায়, সূত্রমতে, এর আগে গত ৩ আগষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কোরবানি হাটে বৈধ ইজারাদারদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন। ওই সভায় তিনি অবৈধ হাট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন বলে দাবি করেন ইজারাদার আরিফুল ইসলাম সুমন।