জার্নাল ডেস্ক
28 July 2019
  • No Comments

    গৌরীপুরে ছাত্রীকে ছুরি ঘটনায় বখাটে গ্রেপ্তার

    শাহজাহান কবির গৌরীপুর ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উক্তক্ত্য’র ঘটনায় প্রতিবাদ করায় ৯ম শ্রেণির ছাত্রী পাপিয়া সুলতানা (১৪) কে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত বখাটে যুবক জহিরুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে গৌরীপুর থানার পুলিশ। শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্রগ্রামের সদরঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব দ্রুত এই বখাটে গ্রেপ্তারের খবরে পুলিশের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন।
    প্রসঙ্গত উক্তক্ত্য’র ঘটনায় প্রতিবাদ করায় কোচিংয়ে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভোরে স্থানীয় ডক্টর এম.আর করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী পাপিয়া সুলতানাকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে মাদকাসক্ত বখাটে যুবক জহিরুল ইসলাম ও তার এক সহযোগী। এ ঘটনায় আহত স্কুল ছাত্রীর বাবা আবুল হাসিম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
    পাপিয়া অচিন্তপুর ইউনিয়নের চড়াকোনা গ্রামের কৃষক আবুল হাসিমের মেয়ে। বখাটে যুবক জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত সামছুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার পর থেকে জহিরুল এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ শনিবার দুপুরে চট্রগ্রামের সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। গৌরীপুর থানার এসআই বিপ্লব মহন্ত রবিবার দুপুরে সাংবাদিকের এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো বলেন এদিনও জহিরুলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
    আহত স্কুল ছাত্রী পাপিয়া জানায়, স্কুলে আসা যাওয়ার পথে বখাটে যুবক জহিরুল বিভিন্ন সময় তাকেসহ তার সহপাঠীদের উক্তক্ত্য করত ও নানা কু-প্রস্তাব দিত। এতে প্রতিবাদ করায় জহিরুল ও তার লোকজন তাদেরকে নানা হুমকীও প্রদান করে আসছিল। ঘটনারদিন ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে কোচিং করার উদ্দেশ্যে অচিন্তপুর বাজারে যাচ্ছিল পাপিয়া। এসময় তাকে অনুসরণ করে আসছিল জহিরুল। একপর্যায়ে তার পেটের ডান দিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় জহিরুল। ঘটনার সময় জহিরুলের সঙ্গে অজ্ঞাত এক যুবক ছিল বলে জানায় পাপিয়া। বখাটেকে খুব দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করায় সে পুলিশের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
    ড.এম.আর করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, পাপিয়া এখন শঙ্কামুক্ত। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দু’দিন চিকিৎসা শেষে শনিবার তাকে বাড়িতে আনা হয়েছে।
    তিনি আরো বলেন, মাদকাসক্ত বখাটে যুবক জহিরুল স্কুলের ছাত্রীদের রাস্তায় প্রতিনিয়ত উক্তক্ত্য করত। স্কুলের ছাত্রীদের উক্তক্ত্যে’র ঘটনায় তার পরিবারের লোকজনের কাছে বিচার দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরাও জহিরুলের বিচার করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে জহিরুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিভাবকরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৌরীপুর থানার পুলিশ জহিরুলকে আটকের জন্য তার বাড়িতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েও তাকে ধরতে পারেনি। পুলিশী অভিযানের মুখে জহিরুল প্রায় ১ বছর আত্মগোপনে থেকে সম্প্রতি সে বাড়িতে এসে পুনরায় অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে পাপিয়াকে ছুরিকাঘাত করে জখম করে সে।
    ঘটনার দু’দিন পর বখাটে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করায় তিনি গৌরীপুর থানার পুলিশকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *