গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্পাদককে হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেফতার-৪

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভ্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তার দুই সহযোগী। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পান মহালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বিএনপি নেতা ১নং মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জানের রিয়াদসহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে গৌরীপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- রিয়াদের সহযোগী জাহাঙ্গীর, মুজিবর ও রাসেল। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের হোসেন সিদ্দিকী।
নিহত শুভ্র পৌরসভার কালিপুর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাত ১০ টার দিকে উপজেলা সদরের পান মহালে চায়ের দোকানে মাসুদুর রহমান শুভ্র সহযোগীদের নিয়ে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় সিএনজি যোগে ৮ থেকে ১০ জনের একটি স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী দল এসে তার উপর হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা শুভ্রকে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেয়া হলে রাত ১১ টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, স্বেচ্ছেসেবকলীগ নেতা শুভ্র হত্যার ঘটনায় পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে শুভ্র’র মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে শুরু করে। তবে পুলিশের কঠোর নজরধারীতে ওই রাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও রবিবার ভোর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গৌরপুর পৌর শহরে। এ সময় বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে টায়ার জ¦ালিয়ে শুভ্র হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তেজিত জনতা এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের রিয়াদের উত্তর বাজারের বাসভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলামের বাসভবন, স’মিল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৫টি স্থানে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৩ টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রেন আনে। একই সময়ে গ্রেফতারকৃত রিয়াদের শ^শুড় মৃত নুরুল ইসলামের বাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়।
গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সোহেল রানা জানান, গত বছর জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে শুভ্র’র সাথে বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান রিয়াদের হাতাহাতি হয়। তখন এ ঘটনাটি তাৎক্ষনিক বেশী দূর এগোয়নি। এরপর থেকেই রিয়াদ ও শুভ্রর বিরোধের সৃষ্টি হয়। মূলত ওই আক্রোশের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা।
তবে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার ধারনা, অন্যদল থেকে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী কতিপয় নেতাদের মদদে এ পরিকল্পিত হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয়েছে। এতে হাইব্রীড আওয়ামীলীগ নেতারাও জড়িত থাকতে পারে।
এবিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি মো. বোরহান কবির বলেন, পূর্ব আক্রোশের জের ধরে এ হামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করা যায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে পৌর শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে এ হামলা ও ভাংচুর আতঙ্কে দিনভর গৌরীপুর পৌর শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ ছিল। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
অপরদিকে রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় গৌরীপুর স্টেডিয়ামে নিহত শুভ্রর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।