সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোশারফ হোসেনের জানাযায় জনতার ঢল

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি একেএম মোশাররফ হোসেন এফসিএ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মরহুমের ছোট ভাই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জাকির হোসেন বাবলু।
গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) বাদ জোহর ময়মনসিংহ নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে মরহুমের নামাজে জানাযা হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশি বাঁধায় সেখানে জানাযা করতে দেওয়া হয়নি। পরে নগরীর গঙ্গাদাস রোডস্থ মরহুমের নিজ বাসভবনের সামনে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মরহুমের জানাযায় শরিক হতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ওয়ারেস আলী মামুন, সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, বিএনপি নেতা অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, আবু ওয়াহাব আকন্দ, ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন, আলমগীর মাহমুদ আলম, অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, মোতাহার হোসেন তালুকদার, অ্যাড. নূরুল হক, জেলা জাতীয় পার্টির নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ। এ সময় বিএনপি, অঙ্গ-সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের জানাযায় অংশ গ্রহন করেন।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, মোশারফ হোসেনের জানাযার নামাজে বাঁধা দিয়েছে পুলিশ। যা দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তারা আরো জানায়, মরহুমের লাশ নিয়ে নগরীতে ঢুকার পথে মাসকান্দা বাইপাসে বাঁধা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নগরীর ঐতিহ্যবাহী আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে জানাযার নামাজ পড়তে দেয়নি পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে নিজ বাসভবনের সামনে জানাযার নামাজ পড়া হয়েছে। বিকেলে বাদ আছর মুক্তাগাছা উপজেলার খেলার মাঠে দ্বিতীয় জানাযা এবং মরহুমের নিজ গ্রাম কান্দিগাওয়ে তৃতীয় জানাযা শেষে সেখানেই পারিবারিক গোরস্থানে তাঁর দাফন করা হয়।
পুলিশি বাঁধার বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, করোনার দোহাই দিয়ে জানাযার নামাজে পুলিশ বাঁধা দিয়েছে। এটা দুভাগ্যজনক। মৃত মানুষের প্রতি এমন আচরণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ-উত্তর ও মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা বলেন, বিএনপির জনপ্রিয়তার কারণেই বিএনপি নেতার জানাযার নামাজে পুলিশ বাঁধা দিয়েছে। এতে সরকারের জনবিচ্ছিন্নতাই প্রমাণ করে।
মরহুমের ছোট ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জাকির হোসেন বাবলু জানান, জানাযার নামাজে পুলিশের বাঁধা লজ্জাজনক ঘটনা। কিন্তু পুলিশের নগ্ন হস্থক্ষেপ উপেক্ষা করে জানাযার নামাজে জনতার ঢল নেমেছে। যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তবে জানাযার নামাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার। তিনি বলেন, জানাযার নামাজে বাঁধা দেয়া হয়নি। মরহুম করোনা পজেটিভ হওয়ায় সীমিত আকারে জানাযা পড়তে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে তার শরীরে করোনা ধরা পড়লে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ জানান, মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, একেএম মোশাররফ হোসেন এফসিএ বিসিআইসির চেয়ারম্যান ছিলেন। ছিলেন শিল্প সচিব। এরপর চাকরী জীবন শেষ করে ১৯৯৬ সালে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসন থেকে দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর সময়ে ময়মনসিংহসহ মুক্তাগাছা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়, যা এখনো দৃশ্যমান। এরপর ২০০১ সালে তিনি দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ছাত্র জীবনে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন একেএম মোশাররফ হোসেন এফসিএ। এরপর ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ থেকে তিনি আইএ পাশ করেন। পরবর্তীতে পিতা হাজী কাশেম আলীর চাকরীর সুবাধে মুন্সিগজ্ঞের হরে গঙ্গা কলেজ থেকে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে লন্ডনে চলে যান। সেখান থেকে তিনি সুনামের সাথে এমবিএ ও এফসিএ ডিগ্রী অর্জন করে দেশে ফিরে এসে কর্মজীবন শুরু করেন।