কপারটেকের তালিকাভুক্তি : ডিএসইকে ১০ দিন সময় দিল বিএসইসি

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোচিত কোম্পানি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে তালিকাভুক্ত করার জন্য ১০ কার্যদিবস সময় পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এক্সচেঞ্জটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার লিস্টিং রেগুলেশনের ৫(৩) ধারার বিধান থেকে অব্যাহতি চেয়ে কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল ডিএসই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ডিএসইর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কপারটেকের তালিকাভুক্তির সময়সীমা-সংক্রান্ত বিষয়ে ছাড় চাওয়া হয়েছিল। আমরা তাদের আবেদন গ্রহণ করার পাশাপাশি তালিকাভুক্তির বিষয়ে এক্সচেঞ্জটির পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের অবহিত করতে বলেছি।

লিস্টিং রেগুলেশনের ৫(৩) বিধান অনুসারে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) সাবস্ক্রিপশন শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদনে তথ্যে গরমিল থাকার অভিযোগ উঠলে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে মধ্যে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিতে পারেনি ডিএসই। ডিএসইর নিজস্ব তদন্তেও কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জটি তাদের পর্যবেক্ষণসহ তালিকাভুক্তির বিষয়ে বিএসইসির পরামর্শ চেয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ডিএসইর চিঠির কোনো জবাব দেয়নি কমিশন। এরই মধ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে ডিএসইর কাছে থাকা কপারটেকের আইপিও সাবস্ক্রিপশনে শেয়ার পাওয়া যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) অর্থ কোম্পানিটির অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য চিঠি দেয়া হয়। কমিশনের চিঠি পেয়ে কপারটেককে আইপিওর টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পর্ষদ। এছাড়া ডিএসইর পর্ষদ কপারটেকের তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয়। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে পর্ষদকে জানায় যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে। এজন্য ডিএসইর পর্ষদ গত ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় লিস্টিং রেগুলেশনের ৫(৩) ধারার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়ার শর্তে কপারটেককে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়। এর পরদিন পর্ষদের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে ছাড় চেয়ে বিএসইসির কাছে চিঠি পাঠায় ডিএসই। চিঠি পাওয়ার পরদিন গতকাল ডিএসইর আবেদন গ্রহণ করে এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠায় বিএসইসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চিঠিতে কপারটেকের তালিকাভুক্তির বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তাদের পর্ষদের সিদ্ধান্ত বিবেচনার পরামর্শ দেয় কমিশন। এক্ষেত্রে লিস্টিং রেগুলেশনের ৫(৪) ধারার বিধান পরিপালনের পাশাপাশি একই প্রবিধানের ৫৫ ধারার ব্যাখ্যা অনুসরণের পরামর্শ দেয় কমিশন। একই সঙ্গে ডিএসইকে কপারটেকের লিস্টিং ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, লিস্টিং রেগুলেশনের ৫(৪) বিধান অনুসারে,  যেকোনো সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ চাইলে যেকোনো বাধ্যবাধকতা কিংবা শর্ত শিথিল করতে পারবে। তাছাড়া এক্সচেঞ্জে সেলফ লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে সেটি অনুমোদন, বিলম্বিত করা কিংবা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের।

আর লিস্টিং রেগুলেশনের ৫৫(১) বিধান অনুসারে, এই প্রবিধানের যেকোনো বিধান সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকলে কমিশনের অনুমোদনক্রমে এক্সচেঞ্জ সেটি স্পষ্টীকরণ কিংবা ব্যাখ্যা করতে পারবে।

এদিকে ডিএসইর একজন কর্মকর্তা কমিশনের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এখন দ্রুতই পর্ষদ সভা ডেকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে এ বিষয়ে বিএসইসিকে জানানো হবে।