জার্নাল ডেস্ক
15 October 2020
  • No Comments

    গৌরীপুরে ভিটামিন এপ্লাস ক্যাম্পেইনে অনিয়মের অভিযোগ !

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে উর্ধ্বতন কর্তাদের ভয়ে সহজে কেউ মুখ খুলছেন না।
    কথায় আছে ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। এ চিত্রটি গৌরীপুর উপজেলার ২৪১টি ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সেন্টারের। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি সেন্টারে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানোর জন্য দুই জন স্বেচ্ছাসেবক, একজন পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ও একজন স্বাস্থ্য সহকারী থাকার বিধান রয়েছে। এতে তদারকির দ্বায়িত্বের প্রথম সারিতে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। বাস্তবে সরেজমিনে প্রথম সারির তদারকি কর্মকর্তাদের বদলে কাজ করছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা।
    সূত্র জানায়, ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে একটি ওরিয়েন্টেশন এবং প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩টি করে ওরিয়েন্টশন সভা করার নিয়ম রয়েছে। সেই সাথে ক্যাম্পেইনের প্রচারের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করার জন্য ৯শত টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি সেন্টারে দুই শত টাকা দৈনিক সম্মানী ভাতার ভিত্তিতে দুই জন করে স্বেচ্ছাসেবক কাজ করার নিয়ম রয়েছে। এ হিসেবে উপজেলায় মোট ৪৮২জন স্বেচ্ছাসেবকের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ রয়েছে। কিন্তু গৌরীপুর উপজেলায় বাস্তবে কোন স্বেচ্ছাসেবক কর্মী মাঠে কাজ না করলেও কাগজে-পত্রে ভুয়া নাম-তালিকায় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে বলে দেখানো হয়েছে।
    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় ভিটামিন এপ্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্র রয়েছে ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী ৬৫৪৮টি শিশুকে নীল ক্যাপসুল এবং এক বছর থেকে ৫ বছর বয়সী ৪৬ হাজার ১৮৩টি শিশুকে খাওয়ানো হবে লাল ক্যাপসুল।
    তবে অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনটি সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলমান থাকার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। দুপুর এগারটায় সংশ্লিষ্টরা সেন্টারে আসলেও চলে যায় দুপুর ২টার মধ্যে। ফলে এসব অনিয়মের কারণে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার শিশুরা। এতে ব্যাহত হতে পারে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের।
    সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার ভাংনামারী, রামগোপালপুর, ডৌহাখলা ইউনিয়নে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন গুলিতে কোন স্বেচ্ছাসেবক নেই। এ চিত্র গৌরীপুর উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নের। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাস্তবে কাজ না করেও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ওরিয়েন্টেশনের আপ্যায়ন খরচ, মাইকিং খরচ, স্বেচ্ছাসেবকদের ভাতাসহ বিভিন্ন বরাদ্ধ নয়ছয় করে হাতিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন উপজেলা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
    ১নং মইলাকান্দা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক উদয় বণিক বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন ৩টি ভাগে ভাগ করে মোট ২৪টি সেন্টারে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন চলছে। এসব সেন্টারের কোনটিতে একজন স্বেচ্ছাসেবক আছে, আবার কোথাও নেই। তবে আমার সেন্টারগুলোতে সব ঠিক আছে। ওরিয়েন্টেশনের বিষয়ে বলেন, এবার করোনার কারণে ওরিয়েন্টেশন করা সম্ভব হয়নি।
    উপজেলা ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের ইনচার্জ মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, সব ইউনিয়নে ওরিয়েন্টেশন হয়েছে কিনা জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে প্রতিটি সেন্টারে কমপক্ষে একজন হলেও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *