দৃশ্যমান উন্নয়নে আলোকিত মাদারগঞ্জের সিধুলী ইউনিয়ন

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৃশ্যমান উন্নয়নে আলোকিত একটি নাম মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মিরন। সিধুলী ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রুপান্তর করতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে উনার কর্ম দক্ষতার ফলে সিধুলী ইউনিয়নে পুলিশিং কমিউনিটির কার্যক্রম শক্তিশালী করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মিরনের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সিধুলী ইউনিয়কে দ্রত সময়ের মধ্যে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এ ইউনিয়কে একটা মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করার লক্ষ্যে নির্বাচিত হওয়ার পর হতে শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে মাফিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
বর্তমান সরকারের ডিজিটাল উন্নয়নের ছোঁয়া এ ইউনিয়নে প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে দিতে আমার পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করছে। পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে এ ইউনিয়ন একটা মডেল ইউনিয়নে হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আমার মেয়াদকালীন সময়ের মধ্য চেষ্টা অব্যহত রেখেছি । জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইউনিয়নে প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ প্রতিটি স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মির্জা আজম এর দিক নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এ ইউনিয়ন শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ইউনিয়নে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এ জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সমন্বয়ে ও তাদের মতামতের ভিত্তিতে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ‘গ্রাম হবে শহর’ ভিশন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমি এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। এ ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে সড়ক পাকাকরণ, ইউনিয়নে আধাপাকা সড়ক ও অনেকগুলো ব্রিজের নির্মাণকাজ হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, রায়েরছরা কানছের বাড়ি হতে হাঠবাড়ি আবুল সরকার বাড়ি পর্যন্ত ২.৫ কিঃ,মিঃ রাস্তা। মির্জা আজম এমপি মহদয়ের সহযোগিতায় মলয় বাবুর মোড় হতে সর্দারবাড়ি বাজার ফজলের বাড়ি পর্যন্ত ৬ কিঃমিঃ রাস্ত নির্মান। নান্দিনা কুরমানের বাড়ি হতে রাজা মিয়ার বাড়ি হইয়া গাপতলী নদীর ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। বীরভাটিয়ান জামালি বাড়ী হইতে ফেরদৌস বাড়ি পর্যন্ত ১ কিঃমিঃ রাস্তা। জুলু মন্ডলের বাড়ি বিলপাড় হইয়া রিয়াজ উদ্দিন এর বাড়ি পর্যন্ত ২ কিঃমিঃ রাস্তা। হাঠবাড়ি যোগল বাড়ি হইতে খলিলের বাড়ি ও ছুটুর বাড়ি ১কিঃমিঃ রাস্তা। বীরভাটিয়ান এলজিইডি পাকা রাস্তা হইতে হামিদ মাষ্টারের বাড়ি ও লেদন ডাক্তারের বাড়ি থেকে হাফিজলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের জমিদান , হাঠবাড়ি আবুল হোসেন সরকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা তিনি, সিধুলি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য মূল্যবান ৩০ শতাংশ জমি দান করাসহ বিভিন্ন জায়গায় ১২ টি বক্স কালভার্ড নির্মান করেন তিনি।
ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে বিধবা ভাতা, মাতৃত্ব ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা প্রতিটি ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যে ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে ভাতা বিতরণে সর্বাত্বক চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া বেকার যুবক ও দুস্থ নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করারও প্রয়াস চালিয়েছি।
মাদক ও যৌন হয়রানি রোধের বিষয়ে তিনি বলেন, পারিবারিক সচেতনতা ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করলে আমাদের যুবসমাজ মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মের দিকে ঝুঁকবে না। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সভা-সেমিনার করেছি, যাতে করে তাদের সন্তানরা পড়াশোনার দিকে মনোযোগী হয়।
একজন সফল জনপ্রতিনিধি ও দক্ষ সংগঠক -মাহাবুব আলম মিরন ১৯৬২ সালের ২৫ মার্চ জামালপুর জেলা, মাদারগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর হাটবাড়ি গ্রামের এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা- আবুল হোসেন সরকার, মা- রেজিয়া বেগম। আট ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি বাবা-মা র দ্বিতীয় সন্তান। ১৯৯৬ সালের বিশ্ব ভালবাসা দিবস ১৪ ফেব্রুয়ারি রাবেয়া সুলতানা’ কে জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহন করে সংসার জীবন শুরু করেন। পারিবারিক জীবনে তাঁর দুই কন্যা- মাহবুবা ফেরদৌস রশ্মি ও মাহদিয়া ফেরদৌস রাইসা এবং একমাত্র পুত্র আদিল শাহরিয়ার রাব্বি ।
চর লোটাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ১৯৭৯ সালে শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা এসএসসি, ১৯৮১ সালে নান্দিনা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা এইচএসসি ও করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন।
ছেলেবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ভক্ত মিরন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন। ১৯৭৮ সালে সিধুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ‘৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের সেই দুঃসময়ে – যখন “জয় বাংলা” শ্লোগান ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। ছাত্রলীগের রাজনীতির উপর ছিল কড়া নজরদারি ।্ওই সময় সকল প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ি কেন্দ্রিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী একদল প্রত্যয়ী ছাত্র-যুব সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন “পাঞ্জেরী ক্লাব” । সে’সময় আওয়ামী লীগের ছায়া সংগঠন হিসাবে কাজ করেছে এই ক্লাবে। ১৯৮২ সালে মাহবুব আলম মিরন ছিলেন পাঞ্জেরী ক্লাব এর অন্যতম সহ-সভাপতি। এ’সময় তিনি পড়া লেখার পাঠ চুকিয়ে জীবন জীবিকার অন্বেষনে ১৯৮৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব পাড়ি জমান। সেখানেও তিনি বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে ছিলেন আপোষহীন। সৌদি আরবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় “বঙ্গবন্ধু পরিষদ” এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাহবুব আলম মিরন বঙ্গবন্ধু পরিষদ, “হাইয়েল” শাখা’র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৫ সালে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে তিনি আবারো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ১৯৯৬ সালে ৭নং সিধুলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শামসুল হক দুদু চেয়ারম্যান এর মৃত্যুতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরী হলে- ২০০১ সালে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর আহবায়ক মনোনীত হন। এবং ২০০৩ ও ২০১২ সালের সম্মেলনে তিনি পরপর দুই বার সিধুলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
২০০৯ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসাবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন এবং ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ৭নং সিধুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি তার নিজ গ্রামে ‘আবুল হোসেন সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ’ছাড়া মির্জা আজম এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তিনি এই বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একজন সফল জনপ্রতিনিধি ও দক্ষ সংগঠক মাহাবুব আলম মিরন- রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।
শ্যামগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক চেয়ারম্যান সম্পর্কে বলেন, তিনি তার কর্মদক্ষতাদিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন মুলক কাজ করেছে,রাস্তাঘাট সহ কালিবাডী বাজারের সুন্দর্য বৃদ্ধিসহ মির্জা আজম চত্তর এর মতো আরো আনেক কাজ তিনি করেছেন।
চর লোচাবর গ্রামের বেহুলা বেগম ইউপি চেয়ারম্যান এর সহযোগিতায় দুর্যোগ সহনীয় পাকা ঘর পেয়ে খুব খুশি তার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।একইভাবে বীর লোটাবর গ্রামের ছাইদুরের স্ত্রী জবা টিনসেট ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এমন জন বান্ধব চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া করেন।
ইউপি সদস্য জগলু মিয়া বলেন,আমি দুইবারের ইউপি সদস্য আমার দেখা বর্তমান চেয়ারম্যানের জন্য আমাদের সিধুলি ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ হয়েছে সেই সাথে মাদক বাল্যবিবাহ নাই বললেই চলে।তিনি খুব দূঢ়তার সাথে এসব বন্ধে কাজ করছেন। ইউনিয়নের প্রতিটি মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন তিনি।