গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনা ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনা ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। ৫ অক্টোবর, সোমবার একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে এই মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, এমন বিবস্ত্র করার পর ভিডিও ধারণ করেতা ইন্টারনেটে আপলোড করা ভয়ঙ্কার ও কুরুচিপূর্ণ ঘটনা। এই ঘটনার তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এটাকে নিছক সামাজিক অপরাধ বলা যায় না! মিডিয়ায় নির্যাতনের বর্ণনা মতে, এর থেকে খারাপ কিছু হতে পারে না। এটা ষড়যন্ত্র মনে হয়েছে। তবে তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় অপরাধীদের আটক করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হবে। এখন জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব বেরিয়ে আসবে। সরকারের প্রসিকিউশন শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে। এমন মামলাগুলো সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আমলে নিয়ে সরকার কাজ করছে। অপরাধীরা সাজাও পাচ্ছে। এটি তো প্রমাণিত হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জনান তিনি।

এর আগে নির্যাতনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর মধ্যে দু’জনকে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে করেছে র‌্যাব-১১। সোমবার দুপুরে র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বাদল (২০) ও দেলোয়ার বাহিনীর দেলোয়ার (২৬), এ ঘটনায় তারা প্রধান আসামি। এছাড়াও আবদুর রহিম ও রহমত উল্লাহ নামেও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক খন্দকার সাইফুল আলম জানান, ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ৪ অক্টোবর ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই নির্যাতনের ঘটনার ৩৩ দিন পরে ৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

তিনি আরো বলেন, এরপর গোয়েন্দা নজরদারি করে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত রাত ২টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে থানা এলাকার চিটাগাং রোড থেকে মো. দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার তথ্য মতে ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে মো. নুর হোসেন বাদলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরো বলেন, ঘটনার দিন রাতে দেলোয়ার বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ভুক্তভোগী গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে তাকে নির্যাতনের করে এবং সেই ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে৷ এই দেলোয়ার বাহিনী চাঁদাবাজি, মাদক এবং নানা রকমের সন্ত্রাসী কাজের সাথে যুক্ত৷ আগেও দুটি হত্যা মামলার আসামি দেলোয়ার।

প্রসঙ্গত, ৪ অক্টোবর, রবিবার বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। মামলার এজাহারে তিনি জানান, ঘটনার দিন বাদল ও দেলোয়ারসহ বাকীরা তার স্বামীকে বেঁধে রাখে এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তারা। এরপর গত এক মাস ধরে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে অনৈতিক প্রস্তাবও দেয় আসামিরা। তাদের সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই ভিডিযটি ফেসবুকে ভিডিওটি ছেড়ে দেয় তারা।