জামালপুরে থামছে না প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলন

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

মিঠু আহম্মেদ:

জামালপুর সদর চন্দ্রা পশ্চিমপাড়া ঝিনাই নদী থেকে
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না। স্থানীয় প্রশাসন বারবার অভিযান
চালালেও আবারও একটি চক্র বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে করে নদীর পাড়
ভাঙনের কবলে পড়ে বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অসহায় হয়ে
পড়ছে নদী তীরবর্তি সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, জামালপুর সদর চন্দ্রা পশ্চিমপাড়া ঝিনাই নদী
থেকে আলহাজ¦ মোতালেব মোল্লা, কামরুল হাসান চাঁন ও খলিলনতার নেতৃত্বে
সদর উপজেলা ঝিনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। নদীর
তলদেশের ভূমির কথিত মালিকানা দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নাম মাত্র অর্থের
বিনিময়ে বালু উত্তোলন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে বালু
উত্তালনের ফলে নদীর তীর, ফসলি জমি, বাসা-বাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে।
হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয়দের বসবাসে জায়গা নিয়ে।
সরেজমিন দেখা যায়, জামালপুর সদর চন্দ্রা পশ্চিমপাড়া ঝিনাই নদী থেকে
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সংঘবদ্ধচক্র। বড় বড়
ট্রাক্টর মেশিন ও স্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এতে করে অসহায় মানুষের আবাদী জমি, বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট হুমকির মুখে
পড়েছে। বসতবাড়ী ও রাস্তার পাশেই স্থাপন করা হয়েছে বালু তোলার ড্রেজার
মেশিন।
জরিফ শেখ বলেন, আমার বাড়ির পেছন থেকে ড্রেইজার দিয়ে বালু উত্তোলন
করায় আমাদের ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর, চলাচলের রাস্তাসহ হুমকীর মুখে রয়েছে।
যে কোন সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এ থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। আমরা এ
কাজে বার বার বাধাপ্রদান করলেও এই প্রভাবশালী চক্রটি আমাদেও কথা শুনছে
না।
এ বিষয়ে বালু উত্তোলনকারী আলহাজ¦ মোতালেব মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি
বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ্জামান ডাকের মাধ্যমে এই ঘাটটি নিয়েছেন। আমরা
প্রশাসনের কাছ থেকে ড্রেইজার দিয়ে বালু উত্তোলন, বেকু মেশিন দিয়ে মাটি
কাটা ও মাহিন্দ্র দিয়ে সেই মাটি পরিবহন করার জন্যে ষ্ট্যাম্পে লিখিত
অনুমোধন দিয়েছে প্রশাসন। তাই আমরা বালু উত্তোলন করছি।

জামালপুর সদর উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা বলেন, অমরা তাদের অনুমতি দিয়েছি
তবে ড্রেইজার ও বেকু দিয়ে বালু ও মাটি কাটার অনুমোধন দেওয়া হয়নি। তারা
যদি ড্রেইজার ও বেকু দিয়ে মাটি কাটে বা বালু উত্তোলন করে থাকে তাহলে তারা
তাদের লাইন্সেস এর নিয়ম কানুন ভঙ্গ করেছে। তারা যদি এ কাজ করে থাকে তা
হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।