শেরপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে ৪৪ বছরের কারাদন্ড

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ,শেরপুর :

শেরপুরে নকলা উপজেলার পাঠাকাটা গ্রামে ৮ম শ্রেনী পড়–য়া স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে রানা মিয়া (২১) নামে এক যুবকের ৪৪ বছরের সশ্রম কারাদ- ঘোষণা করেছে আদালত। ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে শিশু আদালতের বিচারক মো. আক্তারজ্জামান এ সাজার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত রানা মিয়া নকলা উপজেলার পাঠাকাটা পূর্ব গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে। বিচারকাজ চলাকালে জামিন নিয় পলাতক থাকায় আসামী রানা মিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারক এ সাজার রায় ঘোষণা করেন।

শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায়ে অভিযুক্ত রানা মিয়াকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দু’টি পৃথক ধারায় ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন (৩০ বছরের সাজা) এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদ- এবং অপহরণের অভিযোগে ১৪ বছরের কারাদ- এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে আদালত সূত্রে জানা যায়, নকলার পাঠাকাটা স্কুলের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী টালকি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসীর কন্যাকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করতো পাঠাকাটা পূর্ব গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে রানা মিয়া। ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ী ফেরার পথে রানা মিয়া তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি সিএনজি অটোরিক্সাযোগে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অপহৃতা স্কুলছাত্রী জ্যাঠা বাদী হয়ে নকলা থানায় একটি অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী ধর্ষক রানা মিয়াকে গ্রেপ্তার ও অপহৃতা স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নকলা থানা পুলিশ ওই বছরের ২৫ এপ্রিল আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে অভিযুক্ত রানা মিয়া পালিয়ে যায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার আদালত অভিযুক্ত রানা মিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদ- ও অপহরণের অভিযোগে ১৪ বছরের কারাদ- সহ দু’টি পৃথক ধারায় ৪৪ বছরের সশ্রম কারাদ- ঘোষণা করেন।