জার্নাল ডেস্ক
8 September 2020
  • No Comments

    দারিদ্র অনগ্রসরতা দূরীকরণে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে সচেতনতাই মূখ্য

    লেখক
    এম.আই এ রাফিল
    শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:

    ১৯৬৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর উদ্যেগে প্রথম ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ পালন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। সাক্ষরতা বলতে যিনি নাম লিখতে পারে তাকে বলা হয়, এমন ধারন ছিলো। কিন্তু আসলে সাক্ষরতা বলতে বুঝায় যিনি নিজ ভাষার সাথে ও ছোট বাক্য পড়তে পারেন এবং দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ হিসাব নিকাশ করতে পারেন তাকেই সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বলবো। যা ১৯৭৩ সালে ইউনেস্কো পুন:সজ্ঞায়িত করে।
    সাক্ষরতাকে ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং মানব উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ধরা হয়। কারন দারিদ্র্যতা হ্রাস, শিশুমৃত্যু রোধ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি জরুরী। আমাদের দেশে ১৯৯১ সালে সাক্ষরতার হার ছিলো ৩৫.৩ শতাংশ এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জরিপ অনুসারে সাক্ষরতার হার ছিলো ৫৯.৮৭ শতাংশ। ২০২০ সালে আজকের বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শতাংশ ।
    সাক্ষরতার এই হার বৃদ্ধি বলে দেয় বর্তমান বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে সমৃদ্ধির পথে। তবে সাক্ষরতার অগ্রগতি হচ্ছে সত্যি কিন্তু এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বাকি। বাংলাদেশ সাধারণত পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করলে তাকেই সাক্ষরতা সম্পন্ন ধরা হয়। কিন্তু এটা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতার যোগ্যতার সাথে কতটুকু অর্জন করতে পারছে প্রশ্ন থেকে যায়। ২০১৯ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য স্কুলে টিফিন ব্যবস্থা চালু করে। এÿেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে সাক্ষরতা, সাক্ষরতার সাথে উন্নয়নের সম্পর্ক জড়িত। সাক্ষর জাতি, সচেতন জাতি। যে দেশে সাক্ষরতা যত বেশি, সেই দেশ তত বেশি উন্নত। বাংলাদেশে এখনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অনেকে পায় না। তবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বে সাক্ষরতার র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪ তম। বাংলাদেশ সাক্ষরতার বৃদ্ধির জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিতে হবে বহুমুখী টেকসই প্রদক্ষেপ । আসুন আমরা সচেতন হই।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *