সরিষাবাড়ী পৌর মেয়র পলাতক: কাউন্সিলরসহ কর্মচারিদের কর্মবিরতি

প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০

মো: সোলায়মান হোসেন হরেক,সরিষাবাড়ী :

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে র্দীঘ দিন ধরে পৌরসভার মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন পলাতক রয়েছেন। এতে পৌরসভায় সকল কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বকেয়া বেতন ভাতা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফলে পৌর নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রোববার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা কার্যালয়ের সকল অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষনা করেছেন পৌর পরিষদ।
জানা যায়, মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন ২০১৫ সালে ২৭ ফ্রেরুয়ারী বিএনপি থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগে যোগদান করে। যোগদানের পর উপজেলা পৌর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদ পেয়ে যান রুকুনুজ্জামান রোকন। এর পর আওয়ামীলীগে যোগদানকারী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচিত হন রোকন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পৌর পরিষদকে কুক্ষিগত করে একক আধিপত্য চালিয়ে আসছেন তিনি। ফলে অসন্তোষ দেখা দেয় সকল কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে। একপর্যায় মেয়র রুকুনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বানিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদি হয়ে উঠেন পৌর পরিষদ। ফলে আন্দোলনে নেমে পড়েন ১২ জন কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা কর্মচারিরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন মেয়র রুকুনুজ্জামান। এ নিয়ে মেয়র রোকনের সাথে বিরোধ চরমে উঠে। আন্দোলন চলাকালে সম্প্রতি পৌর পরিষদে প্রবেশের চেষ্ঠা চালায় মেয়র ও তার বহিরাগত ক্যাডার বাহীনি নিয়ে। এ সময় পৌর কার্যালয় কাউন্সিলদের সাথে হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক জন কাউন্সিলর আহত হন। পরে ১লা মে(২০২০) কাউন্সিলররা ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্নীতির অভিযোগে মেয়র রুকুনুজ্জামানকে অনাস্থা দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় উপজেলা আ’লীগ, পৌর আ’লীগের সহসভাপতি মেয়র রুকুনুজ্জামানকে দল থেকে বহিস্কার করেন। বহিস্কার হওয়ার পর মেয়র রোকন পৌর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে মেয়র রোকন স্থানীয় সংসদ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মুরাদ হাসান এমপিকে দায়ী করে তার দিকে আঙ্গুল তুলেন। এরপর থেকেই প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেইজবুকে একাদিকবার মেয়র রোকন অসম্মানজনক স্ট্যাটাস দিয়ে আসছিল। হঠাৎ করে ৪আগষ্ট মঙ্গলবার রাত ৮টায় ‘মেয়র রুকন’ নামে ফেইজবুক আইডিতে ভিডিও লাইফ দেখার আহবান করে ফেইজবুকে এক স্ট্যাটাস দেন মেয়র। পরে তিনি রাত ৮টার দিকে ফেইজবুক ভিডিও লাইফে এসে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মুরাদ হাসান এমপির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক, অসম্মানজনক ও ভীতি প্রদর্শন,কটুক্তিমুলক,মিথ্যা, বারোয়াট,মানহানিকর বক্তব্য দেন মেয়র রুকুনুজ্জামান। এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছামিউল হক বাদী হয়ে ৫আগষ্ট মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে করে। এর পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মেয়র রুকুনুজ্জামান ।
এদিকে পৌরসভার কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ১৭ মাস করে বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে। মেয়র দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় না থাকার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বকেয়া বেতন ভাতা না পাওয়ায় চরম ভাবে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। পৌরসভায় সকল কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ায় পৌর নাগরীকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এর ফলে পৌর পরিষদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। পৌর পরিষদের পূর্বঘোষিত অনুযায়ী বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে রোববার পৌর কার্যালয়ে সকল অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষনা দেন। এ সময় ১২ জন কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী জানান, কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে পৌর কার্যালয়ের সকল অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অনিদিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর সাথে দুর্নীতিবাজ পলাতক মেয়র রুকুনুজ্জামানের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন তিনি।