ধোবাউড়া ভূমি অফিসের দুর্নীতির তথ্য ধারন করাই সেবা প্রার্থী লাঞ্চিত

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতির তথ্য ধারন করাই মতিউর রহমান ও আবু সাঈদ নামের দুই সেবা প্রাথীকে এসি ল্যান্ডের নির্দেশে ভূমি অফিসের নৈশপ্রহরীর কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে, মতিউর রহমানকে ছেড়ে দিয়ে আবু সাঈদ খানকে পুলিশে দেওয়া হয়। কোন অভিযোগ না থাকায় পরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।পরে ঘুষ চাওয়ার বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের নিকট ফাঁস করেছে দুই ভুক্তভোগী।

ধোবাউড়া উপজেলা ভূমি অফিসের দূর্নীতি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। জমির খারিজ বা নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত ফি সাড়ে ১১শ’ টাকা থাকলেও ৪০ শতাংশ ভূমির খারিজ করতে লাগছে ২২ হাজার ৫শ’ টাকা। ভূমির যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অতিরিক্ত টাকা না দিলে খারিজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার পর অনুসন্ধান করতে গেলে বেড়িয়ে আসে বিভিন্ন চিত্র, উপজেলার কামালপুর গ্রামের রিক্সা চালক জামাল উদ্দিন জানান, তাঁর ৪০ শতাংশ ভূমি খারিজ করতে ভাগ্নে আবু সাঈদ এর কাছ থেকে কয়েক দফায় ঘুষ লেনদেনের করা হয়েছে। দূর্নীতির ভিডিও ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ভূমি অফিসের নাজির হাসমত উল্লাহ সুমন খারিজের জন্য ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে আবু সাঈদকে পাঠিয়ে দেন অফিস সহকারী আনিস মিয়ার কাছে। দলিলে সমস্যা আছে বলে আরো ১০ হাজার টাকা চুক্তি করে মোট ২২,৫০০ টাকা ব্যতিত খারিজ হবে না বলে জানান সহকারী আনিস মিয়া। পরবর্তীতে কয়েক ধাপে ৩৫ হাজার টাকার দাবি করলেও ১ বছর ৪ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ২২ হাজার ৫শ’ টাকায় খারিজ সম্পন্ন হয়। এমন দূর্নীতির চিত্র প্রকাশ হওয়ায়, উত্তেজিত হয়ে ২৪ আগষ্ট খারিজটি বাতিলের জন্য মিস মোকদ্দমা নং-০২(ঢওওও)/২০২০-২১ মূলে জামাল উদ্দিনকে নোটিশ প্রদান করা হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় জমি ও খারিজের মূল কাগজপত্রসহ এসিল্যান্ড অফিসে শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামে থেকে রিক্সা চালক জামাল উদ্দিন উপস্থিত হতে না পারায় সাঈদ খান শুনানিতে অংশ গ্রহন করলে এসিল্যান্ড তার মূল কাগজপত্র নিয়ে সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর হোসেনকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এসি ল্যান্ডের নির্দেশে মতিউর রহমান (৫০) ও আবু সাঈদকে সকাল ১১.২০ থেকে বিকাল ০৩.৩০ পর্যন্ত ভূমি অফিসের নৈশপ্রহরীর কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে, মতিউর রহমানকে ছেড়ে দিয়ে আবু সাঈদ খানকে পুলিশে দেয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাবেরী জালাল। কোন অভিযোগ না থাকায় পরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এবিষয়ে নাজির হাসমত উল্লাহ সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকার ব্যাপারে কিছু জানিনা। অফিস সহকারী আনিস মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি খারিজের জন্য কোন টাকা নেইনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এসিল্যান্ড সাহেব এর নির্দেশে আবু সাঈদ খান নামের এক ব্যাক্তিকে আটক করা হয় । পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে , কি কারনে তাকে আটক করা হয়েছিলো এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না । বিষয়টি এসিল্যান্ড সাহেব বলতে পারবেন।

ধোবাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাবেরী জালাল এর নিকট ফোনে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের মিডিয়ার সাথে কথা বলার জন্য বিধি নিষেধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
উপজেলা নির্বাাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান তিনিও বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ প্রকাশ জানিয়ে জেলা প্রশাসক এর সাথে কথা বলার জন্য বলেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, অভিযোগ দায়েরকারী ব্যাক্তিদের তার নিকট অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।