নান্দাইলে মামলা তুলে নিতে পা কেটে উল্লাস ! আতঙ্কে পরিবার

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাদি পুত্রের পা কেটে নিয়ে উল্লাস করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও আসামীদের ভয়ে বাদি পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
থানা পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩ আগষ্ট উপজেলার কানুরামপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী তরুন শামীম ভূইয়ার(৩৮) ডান পা কেটে নিয়ে বাম পা কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে স্থানীয় সন্ত্রাসী মিল্লাত, জাহাঙ্গীর, সুমন, হুমায়ন ও সহযোগীরা। এ ঘটনায় শামীমের ছোট ভাই রুবেল ভূইয়া থানায় মামলা দায়ের করে। এ মামলা জান্নাত উল্লাহ নামের এক আসামী গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল করিম।
মামলার বাদি রুবেল ভূইয়া জানান, এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পূবশত্রুতার জের ধরে আমার ছোট ভাই সুমন ভূইয়ার পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে প্রতিপক্ষের আসামীরা। এ ঘটনায় আমার পিতা নূরুল ইসলাম ভূইয়া ২০১৬ সালের ৪ মে থানায় আসামীদের নাম উল্লেখ করেন মামলা দায়ের করে। বর্তমানে ওই মামলায় চার্জ গঠন হওয়ায় আসামীরা মামলাটি তুলে নিতে আমার পিতাকে হুমকি দেয়।
রুবেল দাবি করেন, কিন্তু মামলা তুলে না নেওয়ায় আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩ আগষ্ট আমার বড় ভাই শামীমের পা কেটে নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। এ ঘটনায় আমি বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করায় আসামী জসীম উদ্দিন নিজের ঘর ভাংচুর করে উল্টো নাটক সাজিয়ে আমাদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।
ভুক্তভোগী শামীমের পিতা নূরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, আসামীরা কুখ্যাত কডু ডাকাতের স্বজন ও পরিবারের সদস্য। তারা এলাকার ৪টি হত্যা মামলাসহ অসংখ্যা মামলার আসামী। তিনি দাবি করেন, ১৯৮৯ সালের ১৩ আগষ্ট তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে স্থানীয় সমাজসেবক সিরাজুল ইসলামকে খুন করেন আমার মামলার আসামীরা ও তাদের লোকজন। এ ঘটনা থেকে বাচঁতে সিরাজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী কুতুবপুর গ্রামের আতাবুর রহমান তার নিজ শিশু সন্তান আকলিমা খাতুনকে খুন করে নিহত সিরাজের স্বজনদের আসামী করে মামলা দায়ের করে। কিন্তু ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় সিআইডি তদন্তে নিজ সন্তানকে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসলে তারাই ওই মামলার আসামী হয়। এতে তারা দিশেহারা হয়ে সিরাজুল হত্যা মামলার বাদি আজিজুল চেয়ারম্যানকে খুন করে। এসব ঘটনার নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করায় ২০১২ সালে উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কৃষকলীগ সাধারন সম্পাদক কছুম উদ্দিনকে খুন করে আসামীরা। এরপর ২০১৯ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারী রহস্যজনক ভাবে রাতের অন্ধকারে খুন হয় আওয়ামীলীগ নেতা মোর্শেদ। ওই মামলায় পূবশত্রুতার জের ধরে আমাদের আসামী করে অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট করা হয় প্রায় অর্ধশত বাড়ীঘর।
মামলার বাদি রুবেল ভূইয়া আরো জানান, আমার মামলার আসামীরা এখনো প্রকাশ্যে পিস্তল নিয়ে ঘুরাফেরা করছে। অথচ আমার ভাই এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আসামীদের ভয়ে আমরা পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে বাড়ী ছাড়া হয়ে আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
এসব বিষয়ে নান্দাইল থানার ওসি মনসুর আহম্মেদ বলেন, প্রবাসী তরুনের পা কেটে ফেলার মামলায় একজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে এবং ২১জন জামিনে আছে। অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, মূলত পূর্বশত্রুতার জের ধরে এসব ঘটনার সূত্রপাত।