নান্দাইলে ভুয়া কাজী সহ কনের দুই মামাকে কারাদন্ড

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২০

মজিবুর রহমান ফয়সাল,নান্দাইল:

গভীর রাত, চারিদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ এক কিশোরির উচ্চস্বরে কান্নার আওয়াজ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কান্নারত ওই কিশোরীর অমতে তাকে এক বয়স্ক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাতেই বাল্যবিয়ের এ খবর পৌঁছে যায় ইউএনও এরশাদ উদ্দিনের কাছে। তিনি পুলিশসহ গোপনে ওই বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। এসময় ভূয়া কাজী আবুল হাসেমকে ১ মাসের এবং কনের দুই মামা ইসলাম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলামকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নান্দাইল পৌরসভার দশালিয়া মহল্লায়।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, পাশের কেন্দুয়ার উপজেলার পুরানবাড়ি গ্রামের আবেদ আলীর স্কুল পড়–য়া কন্যা বিউটি আক্তারের বিয়ে ঠিক করা হয় নান্দাইল উপজেলার অরণ্যপাশা গ্রামের পঁয়ত্রিশোর্ধ এক ব্যক্তির সাথে। বাড়ি কেন্দুয়া হলেও গোপনে বিয়ের আয়োজন করা হয় নান্দাইল পৌরসভার দশালিয় মহল্লায় মামা শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বর অন্যান্য লোকজনের সাথে কাজী আবুল হাসেমকেও সাথে নিয়ে আসেন বিয়ে বাড়িতে। কিন্তু গভীর রাতে কনের উচ্চস্বরে কান্নার আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন এই বাল্যবিয়ের কথা। সাথে সাথে এ খবর পৌঁছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিনের কাছে। তিনি পুলিশসহ গোপনে ওই বাড়িতে গিয়ে ভূয়া কাজী আবুল হাসেম সহ কনের দুই মামাকে আটক করেন। এ খবর পেয়ে পালিয়ে যায় বরসহ অন্যরা। পরে রাতেই তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভুয়া কাজীকে এক মাস ও বাল্যবিবাহ দেবার চেষ্টায় কনের দুই মামাকে ১৫ দিনের করে বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।
এই বিষয়ে ইউএনও এরশাদ উদ্দিন বলেন, জন্ম সনদে তিনি দেখতে পান কনের বয়স ১৩ বছর। তখন ভুয়া কাজী সহ তিনজনকে কারাদন্ড এবং বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের প্রমান হিসেবে ভূয়া কাজীর বলিউম বহিও জব্ধ করা হয়েছে।