মামলায় হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রীর কাছে নালিশ :তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ডের চর কালীবাড়ী এলাকায় এক হিন্দু পরিবারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় এলাকাবাসীকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ আগষ্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে.এম খালিদ বাবু ওই এলাকায় গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিচার চেয়ে নালিশ জানান।
এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে.এম খালিদ বাবু এলাকাবাসীর মুখে ঘটনার বিস্তারিত শুনে বিষয়টি কোতয়ালী মডেল থানা সার্কেলের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিনকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন। তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। সংক্ষুব্ধদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার নতুন বাসিন্দা নিশ্চিন্ত পন্ডিত ও জয় পন্ডিত বেশ কয়েকটি রহস্যজনক ঘটনায় এলাকার সাধারন মানুষকে আসামী করে চাঁদাবাজী ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে। ওইসব মামলায় এলাকার ১২জন নারী-পুরুষের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১১জনকে আসামী করা হয়েছে। অথচ ওই দুটি মামলার অভিযোগ বেশ রহস্যজনক এবং পরিকল্পিত নাটক বলে দাবি করছেন স্থানীয় নূরুল আমীন, জয়নুদ্দিন আহম্মেদ, আরিফুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো: এজাজুল হকসহ শত শত নারী-পুরুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক রানা বলেন, গত ১৭ জুলাই ভোর ৬টার সময় মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পরে বাসায় ফিরলে ঘরে আগুন দেয়ার মিথ্যা অভিযোগে আমাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারপিট করেছে নিশ্চিত পন্ডিত ও তাঁর পরিবারের লোকজন। অথচ এ ঘটনার আমি কিছুই জানি না। বর্তমানে ওই হিন্দু পরিবারের ভয়ে আমি ওইখান থেকে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে এসেছি।
স্থানীয় নূরুল আমীন জানান, জনগনের রাস্তায় ওই পরিবারটি জোরপূর্বক গেইট নির্মান করেছে। এতে এলাকাবাসী বাঁধা দিলে জয় পন্ডিতের ভগ্নিপতি সুকুমাল মিশ্র প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে গেইট নির্মান করেছে। এরপর থেকেই তারা ৪/৫ বার বাসায় অগ্নিসংযোগের মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। অথচ তাদের বাসায় আছে পাহাড়াদার এবং বাসার সামনে রয়েছে ৫টি সিসি ক্যামেরা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ঘটনার সময় তাদের সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো: এজাজুল হক জানান, তারা আমাদের প্রতিবেশী হওয়ায় প্রথম মামলায় আমার পিতা এমদাদুল হককে স্বাক্ষী করেন। কিন্তু মামলার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমার পিতা সন্দেহ পোষন করায় দ্বিতীয় মামলায় আমার পিতাকে আসামী করা হয়েছে। গত ১৪ আগষ্ট থেকে ওই মিথ্যা সাজানো মামলায় আমার পিতা এমদাদুল হক জেলে আছেন।
স্থানীয় জয়নুদ্দিন আহম্মেদ জানান, নিশ্চিন্ত পন্ডিতের পরিবারের ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত না হলে বিষয়টি নিয়ে জনবিস্ফোরন ঘটতে পারে।
স্থানীয় আরিফুজ্জামান নামের অপর এক বাসিন্দা দাবি করেন, ঘটনার বিষয় গুলো ভাবলে সাজানো নাটক মনে হয়। ধারনা করা যায়, ওই প্লটের অন্য বাসিন্দাদের বিতাড়িত করতেই হয়তো বা এসব ঘটনা নাটক করছে তারা।
এলাকাবাসী জানায়, তাদের এসব রহস্যজনক বানোয়াট কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এমদাদুল হক, মোজাফর হোসেন ও হারুনের স্ত্রী লিপি আক্তারকে আসামী করে মামলা দিয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্র জানায়, নিশ্চিন্ত পন্ডিত ও জয় পন্ডিতের দায়ের করা দুটি মামলার নাম উল্লেখ করা ১২জন আসামীর মধ্যে ৪জন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে এবং জামিনে আছেন আরো ২জন।