নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ সড়ক গর্তে ভরা চলাচলের অযোগ্য

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০

মজিবুর রহমান ফয়সাল, নান্দাইল:

উপজেলায় নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বর্ষায় গর্তের আকার বৃদ্ধি পেয়ে সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ নি¤œমানের সংস্কার কাজ হওয়ার কারণে সড়কের এমন হাল হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৭ কিলোমিটার। যা জেলার নান্দাইল উপজেলার সাথে গফরগাঁও, ভালুকা, ত্রিশাল ও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলাকে যুক্ত করেছে। পাঁচ উপজেলার কয়েক লাখ বাসিন্দা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পর ২০১৬ সালের শেষের দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া হয়।
সরজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কটিতে উচু-নিচু ঢেউ খেলানো। সড়কের অর্ধ শতাধিক স্থানে কাদা-পানিতে ভরপুর অসংখ্য গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাদা পানিতে পরিপূর্ণ গর্ত গুলোতে পড়ে কম গতি নিয়ে চলাচল কারী যানবাহন গুলো খাবি খাচ্ছে। কখনো কখনো গর্তের লাল কাদা পানি ছিটকে পড়ছে পথ চারিদের উপর। কম দূরত্বে পরপর এ ধরনের গর্তের কারণে যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। সড়কের পাশের বাসিন্দারা জানায়, নিন্ম-মানের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরেই সড়কের কার্পেটিং উচু নিচু হয়ে যায়। এ কারণে শুরু থেকেই এই সড়কে কোন যান ২০-২৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলাচল করতে পারতো না। তার উপর গত কয়েকটি বর্ষায় সৃষ্টিতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। ওই সড়কের ট্রাক চালক মোজাম্মেল হক বলেন,‘এমুন লাফাইন্না সড়ক দেশের আর কোন হানে দেহিনাই’। সিএনজি চালক আব্দুর রহিম, ফারভেজ, রুবেল মিয়া সহ ১০/১২ জন জানায়, শুনেছি ছয় কোটির বেশি টাকায় সড়কটি সংস্কার করেছে। তার পরও এমন উচু-নীচু হলো কিভাবে। বৃদ্ধ শফিক মিয়া জানায়, যখন সংস্কার কাজ করছে তখন থেকেই সড়কটি নিয়ে আমাদের অভিযোগ ছিল। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
এই বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, সড়কটির ব্যাপারে এখনো কিছু জানা হয়নি। যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।