ময়মনসিংহ সদরে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা বঞ্চিত সিংহভাগ মানুষ

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খোদ প্রধানমন্ত্রীর মানবিক অর্থ সহায়তা তথ্যে গড়মিল হওয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন ৯ হাজার ৯ শত ৩৮ জন সিংহভাগ নিম্ম আয়ের মানুষ।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলার অভিযোগ উঠেছে সচেতন মহলে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা বাস্তবায়ন কার্যক্রমে জড়িত কর্মকর্তাদের দ্বায়িত্বহীন আচরনে সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫শ’ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হতদরিদ্র পরিবার।
সদর উপজেলা প্রশাসনের দাবী, উপজেলার সদরের ১১টি ইউনিয়নের মোট ১১হাজার ২শত ৪৪ জনের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল। এ তালিকা থেকে এ পর্যন্ত টাকা পেয়েছে মাত্র ১৩শত ৬ জন। বাকি গুলোর মধ্যে আবেদনে ভুল তথ্য সংশোধন যোগ্য তালিকায় রয়েছে ৫৯২৫জন। সংশোধন অযোগ্য হয়েছেন ৪০১৩জন।
সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে ঘাগড়া, পরানঞ্জ ও ভাবখালী ইউনিয়ন থেকে। ফলে এ পর্যন্ত পরানগজ্ঞ ইউনিয়নে ভাতা প্রাপ্ত হয়েছেন মাত্র দুইজন।
অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট প্রগ্রাম অফিসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের যোগসাজসে অসৎ উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অসহায় হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়ণে অসঙ্গতি সৃষ্টি করেছেন। ফলে প্রকৃত হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত নগদ সহায়তা কার্যক্রমের মুল উদেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সমন্বয় থাকায় প্রকল্প কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নগদ সহায়তা তালিকা কতৃপক্ষের নিকট প্রদান করার কারনেই এ ঘটনা ঘটেছে।
এসব বিষয়ে সদর উপজেলা বাসিন্দাদের অবহিত করে গত ৫ জুলাই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসন সদর ময়মনসিংহ’ নামক ফেইসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট করেন। ওই পোষ্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশ ব্যতিত নানান তথ্য তুলে ধরেন ।এ বিষয়ের উপর অভিযোগধর্মী মন্তব্য করেছেন কয়েক জন।
তাদের মধ্যে সদর উপজেলার বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার ১০ নং ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে একজন সরকারি কলেজের শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রকল্পের টাকা পায়। অথচ কোন নিম্ন মধ্যবিত্ত বা গরিব কাউকেই এই টাকা পেতে শুনি নাই। এই বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি হলে ভালো হয়।
আলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, পরানগঞ্জ ইউনিয়নে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ১১৫৯ জন। ভাতা পেয়েছে ২ জন, সংশোধন যোগ্য ৩ জন এবং সংশোধন অযোগ্য ১১৫৪ জন। এখন প্রশ্ন হল ১১৫৪ জন লোকই কি তাদের পরিচয় গোপন করেছে ? বিষয়টি নিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
ইদ্রিস হোসেন শ্রাবন অপর এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের ১১ ঘাগড় ইউনিয়ন দুই একজন ছাড়া কেউ পাই নাই।
হাসেম উদ্দিন নামক আরেক জন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, প্রত্যেক সুবিধা ভোগীর নাম ঠিকানা প্রকাশ করুন, সাধারন মানুষকে জানার সুযোগ করে দিন,তাহলে দূর্ণীতি কমে আসবে।

এ সম্পের্ক জানতে চাওয়া হয় ময়মনিসংহ সদরের প্রকল্প কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা কাছে তিনি বলেন, সময় সল্পতার কারনে অনেক ভুল হয়েছে। উপকারভোগীদের তালিকা চাইলে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ও ব্যস্থতা দেখিয়ে অফিস ত্যাগ করেন।

এবিষয়ে জানতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম কাছে গেলে তিনি বলেন, আপনারা কেন এসব তথ্য চাইছেন জানি না। অনেক সাংবাদিক কর্মকর্তাদের ডিষ্ট্রাব করে পিআইও অফিস থেকে পাচঁশত টাকা নিয়েই চলে যায়। এসব আমার ভালো জানা আছে। তবে সংবাদের জন্য ভালো উদ্দেশ্যে তথ্য চাইলে ডিসি অফিস থেকে নিন। আমার কাছ থেকে নিতে হলে তথ্য অধিকার আইন মেনে আসুন।