জার্নাল ডেস্ক
18 August 2020
  • No Comments

    পিতার কোল জড়িয়েই মারা গেলে শিশু কন্যা বুলবুলি

    নিজস্ব প্রিতেবদক:

    শাজাহান মিয়া(৪০)। এক নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর সংবাদে ভালুকা থেকে মঙ্গলবার ভোর রাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারি বাজার এলাকার উদ্দেশ্যে মাইক্রোসবাস যোগে যাত্রা করেছিল। সাথে ছিল স্ত্রী, কন্যা, শাশুড়ী ও নিকট আত্মীয়সহ মোট ১৪ জন। যেতে হবে বহুদূর। তাই হয়ত তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি ছুটছিল বেশ দ্রুত গতিতে। কিন্তু কে জানত চালকের চোখে ছিল ঘুম। এই ঘুমই কাল হল। পথে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাশাটি নামক স্থানে হঠাৎ মাইক্রোসবাসটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে পড়ে ডুবে যায় পাশের পুকুরে। ঘটনাটি ঘটে ভোর ৭টার দিকে। বিষয়টি টের পেয়েই মাত্র ৬ বছর বয়সী আদরের শিশু কন্যা বুলবুলি আক্তারকে বুকে জড়িয়ে ধরেন পিতা শাজাহান মিয়া। হয়ত ভেবে ছিলেন নিজের জীবন দিয়ে হলেও আদরের কন্যাকে বাচাঁবে। কিন্তু তা আর হয়নি। অবশেষে পিতার কোল জড়িয়েই মারা গেল শিশু কন্যা বুলবুলি। আর মৃত্যুর কাছে হেরে যায় অসহায় পিতৃত্বের অকৃত্রিম ভালোবাসা।
    জানা যায়, ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাশাটি নামক স্থানে মাইক্রোবাস দূর্ঘটনায় শিশু কন্যা বুলবুলি আক্তারের সাথে মারা যায় আরো ৭জন। এর মধ্যে শিশু কন্যা বুলবুলি আক্তারসহ মহিলা ছিল ৬ জন এবং ২জন পুরুষ রয়েছেন। তবে ভাগ্যক্রমে বেচেঁ যায় মাইক্রোবাসে থাকা নিহত শিশু কন্যা বুলবুলির পিতা শাজাহান মিয়াসহ ৬জন। হতাহতরা সবাই ভালুকা, গফরগাঁও ও তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা।
    দুর্ঘটনায় বেচে যাওয়া শাহজাহান মিয়া জানান, মাইক্রোবাসটি খুব দ্রুত গতিতে চলছিল। রাস্তায় কোন গাড়ি ছিল না। কিন্তু চালকের ঘুমের কারণে হঠাৎ করে গাড়িটি পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার জীবন দিয়ে আমার শিশু কন্যাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও পারিনি। আমি এক হতভাগা পিতা।
    খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী। তিনি জানান, মাইক্রোবাস চালক নজরুল ইসলাম পালিয়ে গেছেন। তবে দূর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *