নান্দাইলে ৭০ একর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চিত

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০

মজিবুর রহমান ফয়সাল, নান্দাইল:

উপজেলার বনগ্রাম গ্রামে পানি চলাচলের রাস্তায় বাড়ি তৈরী করায় ৭শ কাটা (৭০ একর) জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে শতাধিক কৃষক চলতি মওসুমে আমন আবাদে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের পাশে বনগ্রাম গ্রামে পানি চলাচলের রাস্তায় বাড়ি তৈরী করায় প্রায় ৭০ একর বিস্তৃর্ণ জমিতে আমন আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। অথচ কয়েক দিন যাবত কোন বৃষ্টি না হওয়ায় আশ পাশের প্রায় সকল ধানী জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় আমন আবাদ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু ৭০ একর জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনের জন্য তাঁদের জমি প্রস্তুত করতে পারছেননা। কোন কোন কৃষকের নিমর্জ্জিত ওই জমি ছাড়া অন্য কোথাও আর জমি না থাকায় খাদ্যাভাবে পড়ার আশংকা করছেন।
বৃদ্ধ কৃষক জিন্নত আলী জানান, জলাবন্ধতার অংশে তার ৩০ শতক জমি আছে। এছাড়া অন্য কোথাও আর ধানী জমি নেই। এ বছর আমন আবাদ না করতে পারলে না খেয়ে থাকতে হবে। আরেক বৃদ্ধ কৃষক ফজলুল হক বলেন, জলাবন্ধ এলাকাতে তার ১৫ কাটা (১৫০ শতক) ধানী জমি আছে। পানি চলাচলের পথে বাড়ি করে সেই জমিতে জলাবন্ধ সৃষ্টি করে রেখেছে। তাই আমন আবাদ করতে পারছিনা। কৃষক আব্দুর রাশিদ, রমজান আলী, আব্দুল মজিদ, শফিকুল ইসলাম সহ ২০/২৫ জন কৃষক জানায়, প্রতিবেশী সুরুজ আলী, শফিকুল ইসলাম, মিন্টু মিয়া ও আব্দুর রশিদ জমির চলাচলের রাস্তায় এবার মাটি ভরাট করে সেখানে বাড়ি-ঘর তৈরী করেছেন। ফলে পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মওসুম চলে যাচ্ছে অথচ আমরা জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারছিনা। কোন প্রতিকার না পেয়ে ইউএনও বরাবরে একটি আবেদন করেছি। জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারী সুরুজ আলী, শফিকুল ও মিন্টু মিয়া বলেন, অল্প জমি কিনে বাড়ি করেছি। এখন পাশ দিয়ে পানি চলাচল করলে মাটি সরে গিয়ে বাড়ির ক্ষতি হবে। তবে জমির মালিকরা চাইলে পাকা ড্রেন করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। তাতে কোন আপত্তি নেই।
এই বিষয়ে খারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত মিন্টু বলেন, আমি বিষয়টি সর্ম্পকে অবগত নই। জেনে কি করা যায় দেখব। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন বলেন, বনগ্রাম গ্রামের লোকজন এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।