জার্নাল ডেস্ক
8 August 2020
  • No Comments

    নান্দাইল সমাজসেবা কর্মকর্তা স্বচ্ছলদের প্রতিবন্ধী ভাতা দিচ্ছেন

    মজিবুর রহমান ফয়সাল, নান্দাইল:

    আব্দুল হান্নানের একটা চোখ সামান্য ট্যারা। এজন্য নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে সরকারি ভাতা উত্তোলন করছেন। তার স্ত্রী লাভলী আক্তার স্বামী থাকতেও ভাতা নেন বিধবা হিসেবে। এই দম্পতি ছাড়াও প্রতিবন্ধি নন, স্বচ্ছল কৃষক, সিএনজির চালক ইত্যাদি পেশার মানুষ সমাজসেবা কার্যালয়ের জরিপে প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরকারি ভাতা পাচ্ছেন।
    জানা গেছে, হান্নানের বাড়ি নান্দাইল উপজেলার আমুদপুর গ্রামে। তিনি প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা উত্তোলন করছেন। তার স্ত্রী নিচ্ছেন বিধবা ভাতা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হান্নান নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করেন। স্ত্রী বিধবা ভাতা পান কি না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্থানীয় ইউপি সদস্য আঞ্জু মিয়া জানিয়েছেন, হান্নান প্রতিবন্ধী নয়। চোখটা সামান্য ট্যারা। হান্নান একজন স্বচ্ছল কৃষক। তার নিজের জমি আছে। তবে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আব্দুল বারী জানান, লাভলী আক্তার ২৬ জুলাই ব্যাংকে এসে ভাতার টাকা উত্তোলন করেছেন।
    সিংরইল ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য রোকেয়া খাতুন। তাঁর তিন সুস্থ ভাই আব্দুছ ছাত্তার (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮) ও রতন মিয়াকে (৩২) প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি ভাতা উত্তোলন করেছেন। অনিয়মের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রোকেয়া খাতুন এ ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করছেন। একই ইউনিয়নের মহাবৈ গ্রামে ইমান আলীর স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৫৫) প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করেছেন। ইমান আলী বলেন, তাঁর স্ত্রী প্রতিবন্ধী নন। তাঁর দুই ছেলেও একই কথা বলেন। একই গ্রামের আব্দুর রশিদ ঢাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালান। তিনিও প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করেছেন। কথিত প্রতিবন্ধী অজুফা খাতুনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্বামী ইছাম উদ্দিন বলেন, তাঁর স্ত্রী প্রতিবন্ধী নন, তবে তাঁরা গরীব মানুষ’।
    এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইনসান আলী বলেন, চিকিৎসকের সনদপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে ভাতা জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। কোন জায়গায় অসংগতি ধরা পড়লে সংশোধন করা হবে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *