সরিষাবাড়ী মেয়রের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের সাংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

মো: সোলায়মান হোসেন হরেক,সরিষাবাড়ী:

জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত বিএনপির ডোনার ও রাজাকারের নাতি রুকুনুজ্জামান রোকনের শাস্তির দাবি জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের এমপি ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মুরাদ হাসানকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে কটুক্তিমূলক মানহানি মন্তব্যের প্রতিবাদে বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম এ লতিফ। এছাড়া একই দাবিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে পৃথক মানববন্ধব অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মুরাদ হাসান এমপিকে নিয়ে আক্রমণাত্মক, বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভীতি প্রদর্শনমূলক মন্তব্য করেন। পরদিন বুধবার উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছামিউল হক খান বাদি হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় রোকনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা (আইসিটি) আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরও মেয়র গ্রেফতার না হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় দলীয় নেতৃবৃন্দ মেয়র রোকনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মেয়র রোকনের দাদা মৃত আব্দুল গফুর মাস্টার ছিলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চিহ্নিত রাজাকার। তার নেতৃত্বে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের পারপাড়া গ্রামে নিরীহ মানুষকে হত্যা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। মেয়র রোকন বিএনপির ডোনার হলেও কৌশলে আওয়ামী লীগে যোগদান করে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির এজে-া বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিশৃঙ্খলা এবং নানা বিতর্কিত কর্মকা- শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও যৌন কেলেঙ্কারিসহ শতাধিক অভিযোগে গত ১মে ১২জন কাউন্সিলর একযোগে মেয়রকে অনাস্থা এবং একই দিন বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় সভায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এতে তিনি এলাকা ছাড়া হয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক লাইভ ও স্ট্যাটাস দিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান শাহজাদা, মনির উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান এলিন, জেলা পরিষদের সদস্য খোরশেদ আলম ভিপি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমা-ার মোফাজ্জল হোসেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী, কাউন্সিলর শ্রী কাঁলাচান পাল, পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন প্রমুখ।