জার্নাল ডেস্ক
24 June 2019
  • No Comments

    ময়মনসিংহে তরুন শিল্পীর সম্মননা পেলেন নূছরাত ইমাম বুলটি

    কাউছার পারভেজ শাকিল :
    ময়মনসিংহে অনসাম্বল থিয়েটারের এক যুগ পুর্তি অনুষ্ঠানে “তরুণ শিল্পী সম্মাননা ২০১৯” পেলেন   নূছরাত ইমাম বুলটি। গত ২২ জুন শনিবার বিকেল ৫ টায় কাচারিঘাট সংলগ্ন অনসাম্বল থিয়েটারে তরুণ শিল্পী সম্মননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ  বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সচিব বনানী বিশ্বাস, জেলা কালচারাল অফিসার আরজু পারভেজ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম। অনসাম্বল থিয়েটারের একযুগ পূর্তি উপলক্ষে ময়মনসিংহের সংস্কৃতিচর্চাকে বেগবান করতে নিরলসভাবে যারা কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্য থেকে ১২জন তরুণ  শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করাহয়।এ ধারাবাহিকতায় নাট্যাঙ্গণ তথা সংস্কৃতি অঙ্গণের দীপ্ত-উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভাময়ী এক বিনোদন কন্যা নুসরাত বুলটি।  কখনো নৃত্যশিল্পী, কখনো কণ্ঠশিল্পী, কখনো মঞ্চ কাঁপানো অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদে উপস্থাপন করেছেন। ১৯৮৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের নাটকঘর বাইলেন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা ইমাম উদ্দীন আহমদ ও মাতা মাজেদা খাতুন পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা বুলটি। নানা ছামসু উদ্দীন একজন বাউল শিল্পী আর দাদা জনাব আলী যাত্রাশিল্পী ছিলেন। ধোবাউরাতে একটি যাত্রাদলও ছিল জনাব আলী’র। পরম্পরায় বাবা ইমাম উদ্দিন আহমদও যাত্রা মঞ্চে অভিনয়ের জন্য বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সর্বোপরি  একটি সাংস্কৃতিক পরিবারেই বেড়ে উঠা নুসরাত বুলটির।  মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়েই মাধ্যমে শিক্ষা জীবনে পা রাখেন ।  এস.এস.সি পাশের পর মহাকালী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ.এস.সি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ “গার্হস্থ্য-অর্থনীতি” বিভাগ থেকে স্মাতক ডিগ্রী লাভ করেন।পড়ালেখার পাশাপাশি  নানা ছামসুউদ্দীন বাউলের কাছ থেকেই সংগীতের তালিম নিতেন । প্রতিষ্ঠানিকভাবে ধ্রুব পরিষদ, আলোকময় নাহা সংগীত বিদ্যায়তন ও ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র সংগীত বিভাগ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী কোর্স সম্পন্ন করে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন এই  বুলটি। উচ্চতর তালিম নেন ওস্তাদ সুনীল ধর ও প্রখ্যাত বাউল সুনীল কর্মকারের কাছ থেকে লোকসংগীতে রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা । বর্তমানে তিনি সংগীত চর্চাকে বেগবান তথা যোগ্য উত্তরসূরী তৈরীর লক্ষ্যে মুক্তবাক সাংস্কৃতিক একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।নৃত্যতেও রয়েছে তার একক আধিপত্ব।আর অভিনয়ের কথা কি বলব অভিনয়ে ঢাকার বকুল তলা মঞ্চে নৃত্যনাট্য “মহুয়া পালা’য় নিজেকে ‘মহুয়া’ চরিত্রে রূপদান করে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। 
    বুলটি ৩য় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় নিজেকে নাট্যমঞ্চে আবিষ্কার করেন। ২০০৩ সালে বুলটি অভিনীত প্রথম মঞ্চ নাটক “রথের রশ্মি”। খুবই অল্প সময়েই তিনি নাটকের প্রধান প্রধান চরিত্র ধারণ করতে শুরু করেন। কখনো রবীন্দ্রনাথের ‘চন্দরা’, কখনো শরৎচন্দ্রের ‘বিলাসী’, মমতাজ উদদীন আহমেদের ‘রৌশনারা’, ‘বিবিসাব’, ‘বীরাঙ্গনা’, ইত্যাদি প্রধান চরিত্র ধারণ করে বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেন। উচীদী শিল্পী গোষ্ঠীর নাট্য বিভাগের মধ্য দিয়ে নাট্য মঞ্চের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন নাট্যলোক সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন নাট্যদলের সাথে কাজ করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে মুক্তবাক থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রথম নির্দেশিত নাটক “ঘোলা জলে বেহুলা”র মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে মুক্তবাক থিয়েটার।নাটক: রথের রশ্মি(উদীচী), কাঠগড়া(উদীচী), দিন বদলের ইতিহাস(উদীচী), মান্দার(উদীচী), জনৈকের মহাপ্রয়ান(উদীচী), মড়া(উদীচী), ধ্রুবতারা(উদীচী), লালঝাণ্ডা(উদীচী), পাখিদের কথা(উদীচী), প্রেক্ষাপট(ছাত্র ইউনিয়ন)বিবিসাব(নাট্যলোক), ফলাফল নিম্নচাপ(নাট্যলোক), বধ্যভূমিতে শেষ দৃশ্য(নাট্যলোক), বীরাঙ্গনা উপাখ্যান(নাট্যলোক), ঘোলা জলে বেহুলা(মুক্তবাক), তাহাদের উপাখ্যান(নকশা), বিলাসী(নাট্যলোক), আর্তনাদ(নাট্যলোক), অতঃপর বৈরাম খা(বহুরূপী) শাস্তি(মুক্তবাক), চক্ষু কথন(মুক্তবাক), ভোট আমার অধিকার(মুক্তবাক), কী চাহ শঙ্খচিল(মুক্তবাক) সহ অসংখ্য মঞ্চনাটকে কাজ করেন তিনি। সাফল্যের সম্মাননা হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, প্রথম পুরস্কারটি ছিল লোকসংগীতের বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতা ২০১০-২০১১।
    * প্রথম স্থান(গণসংগীত):বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতা ২০১০-২০১১।
    *প্রথম স্থান(নজরুল সংগীত): বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতা।
    * প্রথম স্থান(গণসংগীত):বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত “সত্যেন সেন গণসংগীত” জাতীয় গণসঙ্গীত প্রতিযোগিতা ২০১১”।
    সম্মাননা: ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থা কর্তৃক প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী সম্মাননা (২০১১)
    কর্মজীবন: বর্তমানে তিনি মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মুকুল ফৌজ ময়মনসিংহ জেলার সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছেন।
    সাংগঠনিক অবস্থান:*প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, মুক্তবাক থিয়েটার।* সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, ময়মনসিংহ বিভাগ।* পরিচালক, চতুষ্কোণ ইভেন্ট ফার্ম।* পরিচালক, মুক্তবাক সাংস্কৃতিক একাডেমি।
    নুসরাত ইমাম বুলটি তার শ্রদ্ধেয়, স্নেহ বাজন,শোভাকাঙ্খি, তথা সমগ্র দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *